অনলাইন সংস্করণ
১৪:০৪, ২৬ মে, ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা হুমকি দেখছে না র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তবে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের বিভিন্ন ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র্যাব ডিজি বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক। আমরা এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না। স্বাভাবিকতাই সবার প্রত্যাশিত। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কার্যক্রম ও ব্যবস্থা রয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো থ্রেট দেখছি না। আল্লাহর রহমতে আমরা কোনো রকমের থ্রেট বোধ করছি না। তাই এতো নিরাপত্তার তো প্রয়োজন নাই।
তিনি বলেন, ঈদকেন্দ্রিক বা ঈদের নামাজে এতো নিরাপত্তা তো দরকার নাই। সব তো স্বাভাবিক। তাছাড়া সারা দেশের সব জায়গায় সব জামাতে নিরাপত্তা তো দেওয়াও সম্ভব না। আমরা আমাদের র্যাবসহ পুলিশের যারা বিভিন্ন কাজ করছেন তাদের সীমিত সামর্থ্য অনুযায়ী সব জায়গায় চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি যে নিরাপদ অবস্থায় আমরা বাস করছি। যেসব জায়গায় বা যদি মনে হয় আমাদের এখানে জনসমাগম বেশি সেখানে আমাদের ব্যবস্থা থাকবে। আমরা আশা করি আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করবো যাতে নিরাপদে আমাদের ঈদের জামাতগুলো শেষ করতে পারি। আমি মনে করি এবার কোনো সমস্যায় পড়বো না।
এবার ঈদ নিরাপত্তায় ব্যতিক্রম কী উদ্যোগ নিয়েছে র্যাব? জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, সবসময় যেমন শুনে আসছেন স্বাভাবিক তেমনই। এখনো স্বাভাবিক অবস্থা আছে। এ স্বাভাবিকতা আমাদের সবার কাছে প্রত্যাশিত। আমরা চাই এ স্বাভাবিকতাটুকু থাকুক। তিনি বলেন, আমি মনে করি না কোনো থ্রেট আছে। সুতরাং এরপরেও আর কোনো বিশেষ ব্যবস্থার দরকার আছে বলে মনে করছি না।
ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ সব গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার কারণে শহরের জনসংখ্যা কমে যায়। কিছু সিঁধেল চুরির ঘটনা বেড়ে যায়। এজন্য আমাদের অন্যান্যবারের চেয়েও এবার আমাদের বেশি পেট্রোল টিমগুলো কাজ করবে দিনে এবং রাতে এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে সেক্ষেত্রে আমাদের যে আমাদের কন্ট্রোলস ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও মানুষ সহযোগিতা নিতে পারে। আমরা যেকোনো সময় এসব ক্ষেত্রে রেসপন্স করতে প্রস্তুত।
র্যাব ডিজি জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে র্যাবও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল টিমগুলো কাজ করছে। প্রধান প্রধান ঈদের জামাতের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে অনলাইন মনিটরিংও চালু রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে র্যাব মহাপরিচালক জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।