অনলাইন সংস্করণ
১৪:১০, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি, সেখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ফুটপাতের বিভিন্ন কেবল ও তার সরানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আগুন লাগার পর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৪ নম্বর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।
চাঁদাবাজদের তালিকা সরকারের কাছে রয়েছে—তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপরাধীদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। এতে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের নাম থাকে এবং তালিকাগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঢালাওভাবে সরকারকে দোষারোপ করার জন্য চাঁদাবাজ বলা হচ্ছে। বিএনপিকে ঢালাওভাবে চাঁদাবাজ বলার তীব্র নিন্দা জানাই। জনগণ এর বিচার করবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে এনে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।’ রাড্ডা ও মিরপুরের ঘটনাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে সরকার নির্মোহভাবে তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সভা শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়েছে।
তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রশংসনীয় অবস্থায় রয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগে দুর্গাপূজায় একদিনের ছুটি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার আরও একদিন বাড়িয়েছে এবং বিএনপি সরকার আরও একদিন ছুটি বাড়িয়েছে।