অনলাইন সংস্করণ
১৫:১৬, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশের এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্কহার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের যুক্তরাষ্ট্র-মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার জন্য জেমিসন গ্রিয়ারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার তাকে অবহিত করেছেন যে, গত সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিশেষ উদ্যোগের জন্য ডা. শফিকুর রহমান আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ তুলা বা মানবসৃষ্ট (ম্যানমেড) ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি “উইন-উইন ফর্মুলা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই উদ্যোগ একদিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করবে এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতকে উপকৃত করবে।
তিনি বলেন, পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে, তবে তার দল এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে কাজ করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি)-এর তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সমর্থনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন।
বৈঠকের শেষ পর্বে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করবে।