অনলাইন সংস্করণ
১৩:৩৯, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে বিএনপি ও পরিবারের উদ্যোগে দোয়া-মিলাদ মাহফিল এবং রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত করা হয়েছে।
আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের (২৪ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছোট ভাই ও ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় ও পারিবারিকভাবে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এদিন রাজধানীর বনানীতে তার কবর জিয়ারত করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতৃবৃন্দ বনানীতে কোকোর কবর জিয়ারত, দোয়া ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওয়ান ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার আমলে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের কারণে আরাফাত রহমান কোকো মারা যান।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকাল থেকে বনানী কবরস্থানে কুরআন খতমের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়েও মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
এক-এগারোর সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসা থেকে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকেও গ্রেফতার করা হয়। ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশে তিনি থাইল্যান্ড যান। সেখান থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় চলে যান।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মমতাময়ী মা বেগম খালেদা জিয়া ও বড় ভাই তারেক রহমানকে ছেড়ে সেখানেই থাকতে হয় কোকোকে।
আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া জাতীয় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দু’দিন পর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে জানাজার পর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। আরাফাত রহমান কোকোর জানাজা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে পরিচিত।
আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীর নাম শর্মিলা রহমান। তাদের দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান।