
ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু আসনে ভোট কারচুপি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শরীক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত ওইসব আসনে ফলাফল বন্ধের ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় রাজধানী বাংলামোটরে দলের প্রধান কার্যালয়ে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমরা খুব শঙ্কার সাথে লক্ষ্য করছি যে, কিছু কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং করার একধরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। যখন তারা দেখল যে, কিছু কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছে এবং কিছু আসনে আমাদের ১১ জোটের নেতৃস্থানীয় যারা পার্থী আছেন তাদেরকে হারানোর উদ্দেশ্যে ফলাফল টেম্পারিং করার স্পষ্ট প্রমাণ আমরা পাচ্ছি।'
আসিফ মাহমুদ বলেন, যেমন আমরা ঢাকা-১৩ আসনে দেখলাম যে অসংলগ্ন ফলাফল বারবার আসছিল। মিডিয়ায় একরকম আসছিল, কেন্দ্রে একরকম আসছিল, সামআপ করলে একরকম আশে, রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্যরকম ঘোষণা দিলেন। এর বাইরে আমরা ঢাকা-১৫ আসনে দেখেছি, আমাদের জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর আমিরের যে আসন সেখানে আমরা মিডিয়ায় দেখছিলাম খুব কন্টিনিউয়াস প্রসেসের মধ্য দিয়ে যে, ২০-২২ হাজারের একটা পার্থক্য মেনটেন হচ্ছিল মাঝামাঝি সময় থেকে। কিন্তু যখন ৬১ হাজার আর ৮২ হাজারে থাকল, তার কিছুক্ষণ পরেই সেখানে বিএনপি প্রার্থী পোস্ট দিলেন যে, তিনি বিজয়ী হয়ে গেছেন। মিডিয়ায় তার বিজয়ের ঘোষণা হয়ে গেল। অথচ সেখানে আমরা দেখলাম, ২১ হাজারের মত পার্থক্য থাকা অবস্থায় এই ধরণের ঘোষণা দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে ফল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেখানে মাঠের বাস্তবতা কিংবা ভোট গণনার বাস্তবতা ভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা ঢাকা-১৬ আসনেও একই রকম চিত্র দেখতে পেলাম। ঢাকা-১৭ আসনেও দেখতে পেলাম যে ৫০ আসনে ভোট কেন্দ্রের গণনা শেষ না হতেই বিজয়ী ঘোষণা করে দেয়া হলো। এই মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা এতদিন যা বলে আসছিলাম যে, এক ধরণের ম্যানুপুলেশন এবং ফলাফল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। এবং আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি যে, ঢাকা-১৯ আসনে আমাদের প্রার্থীর একটি কেন্দ্রের ভোট ছিল ৪৬০টা ছিল বিএনপির, আর ৬'শর বেশি ছিল আমাদের প্রার্থীর। সেটা যখন রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষণা দিলেন, তখন তিনি উল্টো ঘোষণা দিলেন। তিনি ৪৬০টা ঘোষণা করলেন শাপলা কলির, আর আর ৬'শর বেশিটা ঘোষণা করলেন ধানের শীষের। সুতরাং এটি খুব হাস্যকরভাবে এবং বাচ্চামিভাবে ফলাফল টেম্পারিং করা হচ্ছে বলে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। নির্বাচন কমিশনকে বলব, অবশ্যই এই বিষয়গুলো খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত এই অভিযোগগুলো স্পষ্টভাবে আমলে নিয়ে সুষ্ঠু ব্যাখ্যা না দেয়া পর্যন্ত যেন ফলাফল ঘোষণা না করা হয়।'
ঢাকা-৮ আসনের প্রসঙ্গ টেনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাতিল ভোট হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা থাকলেও কিছু ব্যালট ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণনা করা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘ব্যালট পেপারে সঠিক জায়গায় সিল না থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ধানের শীষের পক্ষে গণনা করে মির্জা আব্বাসকে জয়ী করার চেষ্টা চলছে।’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনা করে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশের আগে কোনো ফলাফল চূড়ান্ত না করার দাবি জানান তিনি।
আবা/এসআর/২৫