
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পর ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেনি তারা জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করছে। শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এদেশের ছাত্র-জনতা জান দেবে তবুও জুলাই দেবে না। তরুণ প্রজন্ম তাদের সহযোদ্ধা ভাই-বোনের রক্তের সঙ্গে কাউকে বেঈমানি করতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, যেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনা এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে; সেই সংবিধানে দোহাই দিয়ে নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করলে পরিণতি হাসিনার মতোই হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের কারণে আজকের প্রধানমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়েছেন, নিজের মাকে কারাগার থেকে মুক্ত করে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হাসিনার সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। তিনি সংবিধানে দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অথচ সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন। যেই সংবিধানের দোহাই তিনি দিচ্ছেন সেই সংবিধান মানলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচনের সুযোগ নাই। ঐ সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো। তিনিও লন্ডনেই থাকতেন, দেশে আসার সুযোগ পেতেন না।
ড. হেলাল উদ্দিন বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজেদের ওয়াদা রক্ষা করতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। চুরি-ডাকাতি-ইঞ্জিনিয়ারিং যেভাবেই ক্ষমতা দখল করেছেন আমরা চাই ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে জনগণের জন্য কাজ করেন। কিন্তু দেশ ও জাতির জন্য কাজ না করলে জনগণ ৫ বছর সময় দেবে না।
বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ পূর্বক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধির মাস। রমজানের শিক্ষা হচ্ছে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা। বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে যেই ভোট দিয়েছে গণনার সময় সেই ভোট কারচুপি করা হয়েছে’।
তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না, গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রাম চলবেই।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমির শাহীন আহমেদ খানের সভাপতিত্বে এবং মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও পল্টন থানা সেক্রেটারি মঞ্জরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পল্টন থানা সহকারী সেক্রেটারি এনামুল হক ও মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন-সহ পল্টন থানার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে, প্রধান অতিথি ড. হেলাল উদ্দিন সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।