
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত। ঈদের দিন সকাল ৯টায় একটি মাত্র জামাতের জন্য ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। ঈদ জামাতকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বরাবরের মতো দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। এবারের ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি জমে আছে ঈদগাহ মাঠের বেশ কিছু অংশে। তখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। আবহাওয়া বৈরী থাকলেও মুসল্লিদের কাতার সোজা করার জন্য দাগ কাটা শেষ হয়েছে। প্রায় দুইশ বছর ধরে প্রতি বছরই কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের জামাতের জন্য নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। এবারও স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের কথা মাথায় রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে সব প্রস্তুতি। বংশপরম্পরায় এ মাঠে নামাজ পড়ে আসছেন মানুষজন। আবহাওয়া বৈরী থাকলেও এ মাঠে ঈদের জামাত পড়তে আসবেন বলে জানিয়েছেন মুসল্লিরা।
জেলার করিমগঞ্জ থেকে মাঠ দেখতে আসা কুতুবুদ্দিন বলেন, “এ মাঠে আমার দাদা নামাজ পড়তেন, আমার বাবা আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসতেন ঈদের জামাত পড়তে। এখন বাবা বৃদ্ধ হয়েছেন, শারীরিক অবস্থাও ভালো না। এখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে নামাজ পড়তে আসি। এবারের ঈদেও আসব।”
জেলার ইটনা থেকে মাঠ দেখতে এসেছেন রহিম মিয়া। তিনি বলেন, “ঈদের দিন বৃষ্টি থাকলেও সমস্যা নেই। এর আগে বৃষ্টিতে ভিজে এ মাঠে ঈদের নামাজ পড়েছি। এবারও এমন মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে আসব, আল্লাহ ভরসা।”
মাঠে ঘুরতে আসা সদর উপজেলার আমিন সাদী বলেন, “এ মাঠে অনেক মানুষের সমাগম হয়। কার দোয়া আল্লাহ কবুল করেন বলা যায় না। এ কারণে এ মাঠে আমরা ঈদের নামাজ আদায় করতে আসি। মুঘল আমল থেকে যেহেতু এ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, তাই ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির জন্য আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদগাহ পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও র্যাব, বিজিবি ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে জেলা শহরসহ ঈদগাহ এলাকা।”
জায়নামাজ ছাড়া বাড়তি কোনো কিছু নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ না করার জন্য মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
ঈদগাহে আসা মুসল্লিদের জন্য ওজু ও খাবার পানির ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে করা হয়েছে।”
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে প্রথম ঈদুল ফিতরের জামাতে এ মাঠে প্রথম সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় “সোয়ালাখিয়া”। পরবর্তীতে যা শোলাকিয়া নামে পরিচিতি পায়।