অনলাইন সংস্করণ
১৬:৩০, ০৬ আগস্ট, ২০২৬
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়া যাওয়া শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিয়ে প্রতিবেশী ভারত জুলাইয়ের শহিদদের অসম্মান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দাবি করা একটি দেশে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি এটি অসম্মান এবং তাদের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়নের শামিল।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাকে ফেরাতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারত এখনও কোনো সাড়া দেয়নি।
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও একজন পলাতক আসামিকে ফেরত না দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেয়া বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক আস্থার পরিপন্থী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতকে অবহিত করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। তার মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ এক ধরনের হস্তক্ষেপের শামিল।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দেয়া শহিদদের প্রতি অবমাননাকর। এ ঘটনাকে তিনি 'ঘৃণ্য প্রচেষ্টা' আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশ যখনই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার উদ্যোগ নেয়, তখনই দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সময়েও একই ধরনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র চলছে বলে বিএনপি মনে করে।