ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভ্রমণ

কক্সবাজার সৈকতপাড়ের খাবার

গাজী মুনছুর আজিজ
কক্সবাজার সৈকতপাড়ের খাবার

তরমুজের মৌসুমে ঢাকা বা অন্য জেলায় তরমুজ খেয়েছি। তবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাশে ছোট আকৃতির তরমুজের স্বাদ সত্যিই অন্যরকম। সমুদ্রের পাড়ের জমিনে শীত মৌসুমে এ তরমুজের চাষ করেন স্থানীয়রা। সেজন্য কক্সবাজার গেলে মেরিন ড্রাইভের এ তরমুজের খোঁজ করি সব সময়। দরিয়া নগর বা হিমছড়ির আশপাশে গেলেই এ তরমুজ বিক্রি করতে দেখা যায়। তরমুজ ছাড়া শসাও থাকে। এ শসাও সমুদ্রের পাড়ে চাষ করা হয়।

কোথাও গেলে সেখানকার খাবারের স্বাদ নিতে বরাবরই চেষ্টা করি। কক্সবাজারও তার ব্যতিক্রম নয়। আর কক্সবাজারের প্রিয় খাবারের মধ্যে রূপচাঁদা অন্যতম। সত্যি, কক্সবাজারে ভাজা রূপচাঁদার স্বাদ দারুণ। এছাড়া কোরাল বা শুঁটকি ভর্তাও বেশ। অন্যদিকে ডাব সব জায়গায় পাওয়া গেলেও কক্সবাজার গিয়ে ডাব না খেলে মনে হয় গলা শুকিয়ে আছে। আর লাবণী থেকে ইনানী- সবখাইে মিলবে ডাব।

কক্সবাজারের কলার স্বাদও দারুণ। স্থানীয়রা বলেন পাহাড়ি কলা। সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় কলা বিক্রেতাদের দেখা যায়।

সৈকতপাড়ে ছোট ছোট ছেলেরা কফি বিক্রি করে। এদের কফি বানোনোর কায়দাটা বেশ। প্রথমে ওয়ানটাইম কাপে একটু পাউডার দুধ, একটু চিনি, একটু কফির গুঁড়া আর ফ্ল্যাক্স থেকে এককাপ সমান গরম পানি দিয়ে নেড়ে নেয়। এরপর তা ছোট্ট একটা মিনারেল ওয়াটারের বোতলে ঢালে। এরপর কফি মিক্সের জন্য বোতলের মুখ আটকে একহাত দিয়ে ধরে আরেক হাতের উপর বাড়ি দেয়। এরপর তা কাপে ঢেলে ক্রেতাকে দেয়। বানানোর এ ধরনটা দারুণ। অন্যদিকে চা-ও খাই। লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, হিমছড়ি, ইনানী সব জায়গাতে চায়ের দোকান আছে। সৈকতের পাড়ে বসে চা খেতে একটু বেশিই ভালো লাগে।

সুগন্ধা সৈকতের কাছে এক নারী ফুটপাতে চালপিঠা বিক্রি করেন। প্রথমে চালের গুঁড়া দিয়ে তার ওপর কোরানো নারকেল আর চিনি দেন। এরপর ঢাকনা দিয়ে কিছুক্ষণ রাখেন। এরপর তা রোল করে দেন। এ পিঠাও বেশ। বাদ যায় না সৈকতপাড়ের ঝালমুড়িও।

লাবণী থেকে সুগন্ধা, কলাতলী, দরিয়া নগর, হিমছড়ি, ইনানী- সবখানে বা মেরিন ড্রাইভের পাশে এসব খাবার যেমন রয়েছে, তেমনি আছে অনেক রেস্টুরেন্ট। শহরের ঝাউবন, আলগণি বা সুগন্ধার রূপসী বাংলা রেস্টেুরেন্টের খাবারের স্বাদ দারুণ। এসব রেস্টুরেন্টে খাবারের সঙ্গে বাড়তি হিসেবে নানা পদের আচার দেয়। এ আচারের স্বাদও বেশ।

কক্সবাজার গেলে মাঝেমধ্যে কবি বন্ধু সাইয়্যিদ মঞ্জুর সঙ্গে আড্ডা হয়। তিনি মহেশখালীর লোক। তার সঙ্গে মহশেখালীর মিষ্টিমুখ রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ নিয়েছি।

ছবি : লেখক

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত