
স্মার্টফোনের স্ক্রিনে থাকা অজস্র অদৃশ্য ময়লা পরিষ্কারের জন্য ব্যবহারকারীরা হাতের নাগালে থাকা বিভিন্ন তরল বা কাপড় ব্যবহার করে থাকে। তবে এসব অজান্তেই স্ক্রিনের ভেতরে প্রবেশ করে বা স্ক্রিনের ওপরের স্তরে অতিরিক্ত ঘষাঘষির কারণে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ডিসপ্লের ওপরে থাকা ওলিওফোবিক কোটিং-এরও ক্ষতি হতে পারে, যা সাধারণত ডিসপ্লেতে আঙুলের তেল ও দাগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফোনের ডিসপ্লেকে এমন বাহ্যিক ক্ষত রোধ করতে, কিছু জিনিস কখনোই পরিষ্কারে যাবে না।
গ্লাস ক্লিনার : গ্লাস ক্লিনার মূলত জানালা ও অন্যান্য কাচের পৃষ্ঠের জন্য তৈরি। অনেক ফর্মুলায় অ্যামোনিয়া, অ্যালকোহল, দ্রাবক বা অন্যান্য শক্তিশালী ক্লিনিং এজেন্ট থাকতে পারে। এগুলো ফোনের ডিসপ্লের সূক্ষ্ম ওলিওফোবিক কোটিং ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়াও ডিসপ্লের বিভিন্ন স্তর ও কোটিংয়ের ক্ষতি করতে পারে এবং স্ক্রিনে রাসায়নিক অবশিষ্টাংশও রেখে যেতে পারে। তাই কাচ পরিষ্কার করে বলে ফোনের স্ক্রিনেও এটি নিরাপদ- এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
চশমার গ্লাস ক্লিনার : চশমার লেন্স ও ফোনের স্ক্রিন দেখতে একই ধরনের কাচ হলেও তাদের ওপরের কোটিং এক নয়। লেন্স ক্লিনারে থাকা অ্যালকোহল, সার্ফ্যাক্ট্যান্ট বা অন্যান্য রাসায়নিক নির্দিষ্ট লেন্স কোটিংয়ের জন্য তৈরি হতে পারে, কিন্তু ফোনের ওলিওফোবিক কোটিংয়ের জন্য নয়। তাই ফোন নির্মাতা অনুমোদন না দিলে এটি ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
হেক্সিসল : হেক্সিসল মূলত হাত জীবাণুমুক্ত করার হ্যান্ড রাব, স্ক্রিন ক্লিনার নয়। এর ০.৫% ক্লোরহেক্সিডিন গ্লুকোনেটের সঙ্গে ৭০% আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল থাকে। অ্যালকোহল দীর্ঘসময় বা বারবার ব্যবহারে ডিসপ্লে ড্যামেজ হতে পারে, আর ক্লোরহেক্সিডিনের মতো উপাদান স্ক্রিনে অবশিষ্টাংশও রাখতে পারে।
সরাসরি পানি : পানি নিজে সবসময় ক্ষতিকর নয়- নির্মাতারা প্রয়োজনে অল্প ডিস্টিলড পানি কাপড়ে ব্যবহার করার অনুমতি দেন। কিন্তু পানি সরাসরি স্ক্রিনে ঢাললে তা স্পিকার, পোর্ট বা অন্য খোলা অংশে প্রবেশ করতে পারে। সাধারণ পানিতে থাকা খনিজ শুকিয়ে দাগও তৈরি করতে পারে। তাই পানি সরাসরি নয়, সামান্য ভেজা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন।