ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কবি ও কবিতা

সাইয়্যিদ মঞ্জু
কবি ও কবিতা

কবিতা হৃদয়ের সেই নিভৃত কোণের প্রতিধ্বনি, যেখানে অপ্রকাশিত বিরহ কালক্রমে এক গভীর পরিণতবোধ ও প্রজ্ঞার জন্ম দেয়। এ মনস্তাত্ত্বিক সত্যের সমান্তরালেই বয়ে চলে উপকূলের ধীবর ও নুন-চাষিদের রুক্ষ-কঠিন জীবনের বাস্তবতা। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে বেঁচে থাকার বাহ্যিক লড়াই যেমন চরম সত্য, তেমনি বুকের বাম পাশে চলা নীরব মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও সমান বাস্তব। জোয়ারের শেষে সৈকত থেকে জল সরে যাওয়ার মতোই জীবনের অনেক 'প্রথম কিছু' আজ হয়তো বহু দূরে, কিন্তু নদীর চোরাস্রোতের মতো সেই নামহীন অনুভূতি আজও অমলিন। উপকূলের ঝড়-ঝাপটা, গোধূলির ম্লান আলো কিংবা জাল বোনার ক্লান্ত অবসরে সেই অনুভূতিগুলোই উপমা হয়ে ধরা দেয় পাণ্ডুলিপিতে।

সব অনুভূতির পূর্ণতা থাকে না; কিছু সৌন্দর্যের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে কেবলই প্রকাশহীনতার নীরবতায়। লোনা বাতাস আর ধীবর জীবনের পটভূমিতে প্রকাশ না পাওয়া এই 'আদিম স্পন্দন'-ই কবিতার মূল উপজীব্য, যা অধরা এক আলো হয়ে জ্বলছে। দূরত্বের সীমানায় হারিয়ে গিয়েও কেউ কখনো ফুরিয়ে যায় না, বরং মিশে থাকে অস্তিত্বের প্রতিটি নিঃশ্বাসে। এ তীব্র ব্যাকুলতা আর বাস্তবতার টানাপোড়েন থেকেই প্রতিনিয়ত নিজের অজান্তে কিছু কথা কাগজের বুকে নেমে আসে। শব্দগুলো যখন হৃদয়ের এ গভীর ক্ষত ও প্রজ্ঞাকে ছুঁয়ে যায়, তখন তা আর শুধু সাধারণ লেখা থাকে না; মনের অজান্তেই তা হয়ে ওঠে এক একটি অবাধ্য কবিতা।

পুনর্জন্ম

সমুদ্র যখন পিপাসিত হয়

আমার ভেতর থেকে বের হয়ে আসে কয়েকটি নদী

মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিদীর্ঘ

আলাপসালাপ পরস্পরে

নদী খুব আফসোস করে বলে গেল-

পুনর্জন্মে নদী হব...

মাধবীলতার দেশ

কত যে সহস্র রাত ভস্মীভূত হয়ে গেল

স্মৃতির শরীর জানে, আজও-

গোপন অশ্রুতে অবিরাম হিমছড়ি

পিপাসিত বঙ্গোপসাগর পানে

অমরত্ব লাভ করে সময়ের ক্ষত

অপারগ চোখ মুছে বিশুদ্ধ সরল স্বপ্ন

চার আঙুলের এ কপাল, ঠিক

দূর থেকে ধরে রাখি অন্তহীন কোন টান।

অতীব পুরোনো এক মাধবীলতার গল্প

স্মৃতির বিকেলজুড়ে ওগো চেনা মেয়ে

সবি তো রেখেছ তুমি নিজের গভীরে।

নাইয়রী যতবার মাধবীলতার দেশে

আকাশ না হয় চাঁদ, যে কাউকে তুমি বলিও খবর

চুপিসারে দিয়ে যাব মাটির দেয়ালে চুমু।

৬ তারিখ ৯ মাস প্রস্ফুটিত সুকিফুল

একটি চড়ুই রোজ উড়ে যায় বটতলী থেকে

অথচ মানুষ জানে না গন্তব্য কত দূর কোন আঙিনায়,

চতুর্দশী চাঁদ নাকি আগমনী উৎসব করে

কবিতার শিরোনাম দেখে বর্ষা-

নিজের হাতেই এঁকে গেল শরৎ-আল্পনা।

সেই পথ, ঘর, উঠোনতে বয়স্ক মাধবীলতা

এই বুঝি তুমি হেঁটে গেলে

ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে স্মৃতির শৈশব

নিজেও জানি না, আজও এত পেটপুরে কেন ।

পুষ্পবতী বৃক্ষ ঢালে সুকিফুল কী দারুণ শোভা

কুতুবজুমে নেমেছে উৎসব আজ...

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত