
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় চলতি মৌসুমের খেতের তরমুজ অবাধে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। সাধারণ মানুষরা মৌসুমী ফল তরমুজ যেমনি সহজে খেতে পারছে তেমনি উৎপাদকারী কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। ফলে তরমুজের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুঠেছে। টেকনাফ পৌর এলাকার উপরের বাজার, শাপলা চত্বর, বাস স্টেশনের নাফ পেপার বিতানের সামনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মৌসুমী তরমুজ বিক্রির মিনি আড়ৎ বসিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের সুত্রে জানা যায়, চলতি কয়েক সপ্তাহ থেকে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগাম তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। এদিকে সিজনের শুরুতে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে আগত অনেক ক্রেতা বলছেন এই সময়ে কিভাবে তরমুজের ফলন হয়েছে। অন্যান্য সিজনে শুরুতে তরমুজের দামের চেয়ে এবারে অনেকটা কম বলে বাজারে ভিড় করা অনেকে বলছে। কথা হয় তরমুজ বিক্রেতা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কচুবনিয়া পাড়া এলাকার আবদুল গফুর জানান, আমরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করে বছরের পর বছর সংসার চালিয়ে আসছি। সিজনের শুরুতে যেকোনো ফলের কদর বেশি হওয়ায় কৃষকের কাছ থেকে চড়া দামে কিনেও গ্রাহকদের বিক্রি করে ভালো মতো লাভবান হচ্ছি। টেকনাফ ইউনিয়নের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার তরমুজ চাষি মো. রহিম জানান, সনাতন পদ্ধতি তথা গতনুগতিক পন্থায় আগাম বীজ রোপণ করে সহজে ফল ঘরে তুলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বর্ষার পর পর হওয়ায় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় একদিকে যেমন কষ্ট বেশি হলেও খেতে পানি পরিবেশনে কম কষ্ট হয়েছে। মাত্র ৩০০টি তরমুজ বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি বলে আমার দেখা দেখিতে পাড়া-প্রতিবেশীরা আগামীতে এরকম আগাম চাষের চিন্তা করছে। মানুষের প্রিয় ফল তরমুজ বছরের এই মাস তথা বাংলা অগ্রহায়ণ মাসের শেষের দিকে চাষাবাদের ধুম পড়ে। এই ফলের বীজ বপনের ১১৫-১২০ দিনে নাগাদ খাবারের উপযোগীতা লাভ করে। সাধারণত বাংলা ফাল্গুন মাসে সবখানে তরমুজের দেখা মিলে। চলতি সনে টেকনাফ সদরের মহেষখালীয়া পাড়া, কোনকার পাড়া, বড় হাবিব পাড়া, লম্বরি, সাবরাং ইউনিয়নোর আলীর ডেইল, মুন্ডার ডেইল, সিকদার পাড়া, নয়া পাড়া, কাটাবলিয়া পাড়া, বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া, মারিশবনিয়া পাড়া, উত্তর শিলখালী, শামলাপুর, হ্নীলার পাহাড়ী এলাকা লেচুয়াপ্রাংসহ বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় সাধারণ কৃষকরা তরমুজের আগাম চাষ করে আশানুরুপ ফলন পেয়েছে। এসব চাষিরা এখন অনেক কৃষককে আগাম তরমুজ চাষে উৎসাহ যোগাচ্ছে। এব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শফিউল আলম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এখানে তরমুজের পরিদর্শনী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে শিগগিরই উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা মাঠ পর্যায়ে ফিজিক্যালি পরমার্শ দিয়ে আসছি। আগাম চাষাবাদে যে কেউ কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।