
পবিত্র মাহে রমজান সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পুরো মাসব্যাপী সর্বসাধারণের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করে থাকে। চট্টগ্রামেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।
চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রথম রোজার ইফতারে সেই দৃশ্য দেখা গেল। মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, ইফতারের জন্য বসে আছেন নানা বয়সী হাজারো রোজাদার। এর মধ্যে আছেন ধনী গরিব থেকে ছিন্নমূল মানুষ। তারা এক কাতারে বসে আদবের সঙ্গে ইফতার করছেন। নেই হইচই, হুল্লোড়, হাঁকডাক। কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে এমন সুশৃঙ্খল পরিবেশ সত্যিই প্রসংশার দাবি রাখে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একদিন আগেই ৮-১০ জন বাবুর্চি ও সহকারী আড়াই-তিন হাজার রোজাদারের ইফতার রান্নার প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি শুরু করেন। ছোলা ভিজিয়ে রাখা হয় আগের দিন আসরের সময়।
খেসারি ভিজানো, বেগুনির বেগুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আদা, ধনেপাতা কাটার কাজ শুরু হয় ভরার থেকে। তারপর ভাজাপোড়ার কাজ চলে আসরের আজান পর্যন্ত। এর মধ্যে তৈরি হয়ে যায় থালা থালা ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ। আসরের পর রুহ আফজা শরবত তৈরি করা হয় বড় বড় ড্রামে। এর মধ্যে শুরু হয় ইফতার পরিবেশনের প্রস্তুতি। কাতারে কাতারে মানুষ। সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে যায় প্লাস্টিকের গ্লাস।
কাতারের বাইরে ৫-১০ জনের থালাও পরিবেশন করা হয়। গোল হয়ে বসে পরম তৃপ্তিতে ইফতার করেন রোজাদাররা। মাসব্যাপী ইফতার মাহফিলের প্রথম দিন অতিথি ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী। আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের খতিবের একান্ত সচিব মো. হাসান মুরাদ জানান, আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের খতিব আওলাদে রাসূল ছাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরি আল মাদানির উদ্যোগে ২০০১ সালে মক্কা মদিনার আদলে ছোট্ট পরিসরে ইফতার মাহফিল শুরু হয়েছিলে। কালের পরিক্রমায় এখন প্রথম রোজা থেকে আড়াই তিন হাজার মুসল্লি, ১০ রোজার পর ৪-৫ হাজার মুসল্লি ইফতার করেন এখানে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ইফতার সামগ্রী যারা দান করেন তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তারা ইফতার উপকরণ পৌঁছে দেন। আমরা জমা রাখি এবং প্রতিদিন ১০ জন বাবুর্চি দিয়ে রান্না করে পরিবেশন করি। আজ নয় পদের ইফতার পরিবেশন করা হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের এ ইফতার মাহফিল। তিনি জানান, মুসল্লিদের পাশাপাশি অনেক নারী ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অনেকে তবররুক হিসেবে এ ইফতার নিয়ে যান।