
নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করেছে চসিক। শিগগিরই আরও ৬০টি সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এরইমধ্যে ৪২টি সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে কার্যাদেশ প্রদানের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আরও ১৮টি সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম নগরীর দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি মেয়র ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ড ও ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান। টেকনিক্যাল মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ ও সড়ক উন্নয়ন ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডের টেকনিক্যাল মোড়ে ২৬.৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার ব্যয় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এলাকাটিতে অতীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটায় পথচারীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেকনিক্যাল মোড় থেকে মোজাফফর নগর আবাসিক এলাকা পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬৯২০ ফুট রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। মেয়র জানান, ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডে এরইমধ্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং আরও ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি উপ-প্রকল্প প্রাক্কলন পর্যায়ে রয়েছে। সমাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রহমান নগর রোড, কসমোপলিটন রোড ও বাইলেইন, আরাকান হাউজিং সোসাইটি রোড, সিডিএ এভিনিউ রোডের বহরদার মসজিদ থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত কার্পেটিং, তোফাজ্জল চৌধুরী বাড়ি সম্মুখ সড়ক, ফরেস্ট গেইট সংলগ্ন পিলখানা রোড, হুরবাগ আবাসিক এলাকা, গ্রীনভিউ হাউজিং সোসাইটি, নাছিরাবাদ গার্লস স্কুল সংলগ্ন সড়ক, আজিজ উল্লাহ হাউজিং সোসাইটি, মোহাম্মদ জামান রোড বাইলেইন, আল ফালাহ হাউজিং সোসাইটি মসজিদ রোড বাইলেইন, আবদুল জলিল প্রাইমারি স্কুল রোড, ওয়াফদা রোড, আল মাদানি বাই-লেইন, হাবিব লেইন, মোজাফফর নগর আবাসিক এলাকা, আব্দুল হান্নান রোড, প্রত্যাশা আবাসিক এলাকা, আরাকান হাউজিং সোসাইটিতে আরসিসি রেলিং নির্মাণ, বাটা গলি সংলগ্ন ড্রেন ও ফুটপাত, রুবি গেইট ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোড এবং সুগন্ধা আবাসিক এলাকার আংশিক উন্নয়ন কাজ।
পশ্চিম ষোলশহরে সড়ক প্রশস্তকরণ ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে বায়েজিদ থানা সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাত নির্মাণ এবং রৌফাবাদ ও পাহাড়িকা আবাসিক এলাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মেয়র। এ প্রকল্পে ৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৮০০ ফুট রাস্তার উন্নয়ন করা হবে। এ ওয়ার্ডে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং প্রায় ৩০ কোটি টাকার কাজ এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমাপ্ত কাজের মধ্যে রয়েছে খতিবের হাট এলাকা, ত্রিপুরা খাল সংলগ্ন চানমিয়া সওদাগর রোড, বার্মা কলোনী, হামজারবাগ, হামজা খা বাই-লেইন, পাহাড়িকা আবাসিক এলাকা আংশিক, রংপুর কলোনী, গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকা, মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকা, ইসমাইল কলোনী, স্টারশীপ ফ্যাক্টরি সংলগ্ন বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি, সুন্নিয়া মাদরাসা রোড, শাহজাহান আবাসিক এলাকা, রাজগঞ্জ, হিলভিউ, গাউছিয়া ও শান্তিনগর আবাসিক এলাকা এবং মোহাম্মদনগর আবাসিক এলাকার সড়ক উন্নয়ন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, গত ১৬ মাসে দায়িত্ব পালনকালে আমি চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রীন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গঠনের চেষ্টা করেছি। বর্তমানে বড় বড় সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান এবং ৬০টি সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম নগরীতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ অবৈধভাবে সড়ক দখল করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাত ও রাস্তা উন্মুক্ত রাখতে হবে। ইভনিং মার্কেটসহ বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেওয়া হলেও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। মেয়র আরও জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় সংকীর্ণ অংশ বা চিকেন নেক ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যানজট ও জনভোগান্তি কমে। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন, ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে চলমান উন্নয়ন কাজে জনগণের সহযোগিতা চাই। আমরা কোনো অবস্থাতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ এদেরকে প্রশ্রয় দিই না। সন্ত্রাসীরা যত শক্তিশালী হোক না আমরা জবাব দিব। আমরা আপনাদেরকে আহ্বান করব যখনই সন্ত্রাস হবে, কোন ধরনের অসামাজিক কাজ হলে, কোন সমস্যা হবে সেগুলো আমাদেরকে রিপোর্ট করবেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে সরকারিভাবে আইনগত পদক্ষেপ নিব। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। আমাদের আইনশৃঙ্খল বাহিনী সজাগ হয়েছে। আমরাও সজাগ রয়েছি। আমরা চাই জনগণ স্বস্তিতে থাকুক। শান্তিতে থাকুক। ভালো থাকুক। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন, মহানগর বিএনপির সদস্য ফয়েজ আহমেদ চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া, ও বিএনপি’র স্থানীয় নেতারা।