ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সেচ ও যোগাযোগ সংকট, ফল চাষে সুফল মিলছে না

সেচ ও যোগাযোগ সংকট, ফল চাষে সুফল মিলছে না

সেচের অভাব, সড়ক ও যোগাযোগ দুরবস্থা এবং সীমিত বাজারসংযোগের কারণে খাগড়াছড়ির ফলচাষ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না। পাহাড়ি জলবায়ু ও মাটির বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও জেলা এখনও ফল উৎপাদনে পিছিয়ে রয়েছে।

জেলায় চাষ হয় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, লিচু, পেয়ারা থেকে ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম, রাম্বুটান ও অ্যাভাকাডোর মতো বিভিন্ন বানিজ্যিক ফল। তবে বেশির ভাগ চাষ এখনও বৃষ্টিনির্ভর হওয়ায় খাগড়াছড়ি কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন অর্জন করতে পারছে না। পাশাপাশি সড়ক অবকাঠামোর দুরবস্থা, সেচের ঘাটতি ও সীমিত বাজারসংযোগ এটিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পার্বত্য তিন জেলায় মোট ফল উৎপাদন ছিল প্রায় ১৮ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। তিন বছরের ব্যবধানে ফল উৎপাদন বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। তবে বৃদ্ধি প্রধানত বান্দরবান ও রাঙামাটি থেকে এসেছে; খাগড়াছড়ির উৎপাদন ধীরগতিতে বাড়ছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বান্দরবানে উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি, রাঙামাটিতে প্রায় ৭ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন এবং খাগড়াছড়িতে ৩ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন। অর্থ্যাৎ অন্যান্য জেলা থেকেও পিছিয়ে আছে এই জেলা। আগের দুই বছরেও একই প্রবণতা ছিল। শুকনো মৌসুমে পর্যাপ্ত সেচ না থাকায় ফলন কমে যায়, অনেক সময় গাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আধুনিক সেচপ্রযুক্তি এবং পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় ধারাবাহিক উৎপাদন বজায় রাখা কঠিন। সদর উপজেলার ফলচাষি সুজন চাকমা বলেন, চাষের সবচেয়ে বড় সমস্যা পানির অভাব ও খারাপ যাতায়াতব্যবস্থা। অন্যান্য জেলায় পানি ও যোগাযোগ সুবিধা থাকায় সুবিধা বেশি। খাগড়াছড়িতে তা নেই।

আরেক চাষি মোতাহের আলি জানান, বৃষ্টি ভালো হলে ফলন ঠিক থাকে। কিন্তু খরার সময়ে পানির অভাবে ফল ছোট হয়, অনেক গাছ ঝরে যায়। সেচের নিশ্চয়তা থাকলে আয় আরও বাড়ানো যেত।

সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থাও বড় বাধা। দুর্গম পাহাড়ি সড়কের কারণে ফল বাজারে নেওয়ার সময় ও খরচ বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই কাঁচা বা আধাপাকা ফল দ্রুত বাজারে পাঠাতে হয়, নচেৎ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংরক্ষণাগারের অভাব আরও জটিলতা বাড়িয়েছে। কমলছড়ি ইউনিয়নের ফলচাষি মংশেতু মারমা বলেন, সংরক্ষণাগার না থাকায় ফল ধরে রাখা যায় না। দ্রুত বিক্রি করতে হয়, তাই ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে পুঁজির ঘাটতি রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ও সেচের অভাবও উৎপাদন কম হওয়ার বড় কারণ। তবে ধীরে ধীরে ফল উৎপাদন বাড়ছে, চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাগড়াছড়িতে ফল উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ প্রকল্প, পাহাড়ি সড়ক উন্নয়ন, হিমাগার এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ- এই পাঁচটি খাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। প্রাকৃতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় খাগড়াছড়ির ফলচাষ বর্তমানে চাপে রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও বাজারভিত্তিক সহায়তা নিশ্চিত হলে জেলা অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান আরও বড় হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত