
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জনবল সংকটের কারণে একাধিক কর্মকর্তাকে একাধিক উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, বিআরডিসি, খাদ্য অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অফিস ও সেনেটারি অফিসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক উপজেলার দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে।
এতে করে একটি অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ফাইল ও সেবা কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন বিষয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অন্য উপজেলাতেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা সংক্রান্ত অনেক কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই অবস্থা বিআরডিসি অফিসেও। গ্রামীণ উন্নয়ন, সমবায় কার্যক্রম এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই দপ্তরেও জনবল সংকট প্রকট। একজন কর্মকর্তাকে একাধিক উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সরকারি খাদ্য সংগ্রহ, খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিক স্থানে ছুটতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে মহিলা বিষয়ক অফিসেও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তার স্বল্পতার কারণে এসব কার্যক্রম অনেক সময় ঠিকমতো পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেনেটারি অফিস বা স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত দপ্তরেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব থাকলেও কর্মকর্তার অভাবে মাঠ পর্যায়ের অনেক কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অফিসে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কারণ তাকে অন্য উপজেলায় বা অন্য অফিসে দায়িত্ব পালন করতে যেতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার অফিসে আসতে হয় এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দেরি হয়।
একজন ভুক্তভোগী সেবা গ্রহীতা বলেন, একটা সনদ বা কাগজের জন্য অফিসে গেলে বলা হয় স্যার অন্য উপজেলায় গেছেন। আবার অন্যদিন গেলে বলা হয় তিনি মিটিংয়ে আছেন। এতে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। এদিকে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একাধিক উপজেলার একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিটি দপ্তরের আলাদা আলাদা প্রশাসনিক কাজ, মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম এবং জনগণের সেবা সংক্রান্ত দায়িত্ব রয়েছে।