ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক

সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক

রাউজানে সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক সাফল্যের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। কম খরচে ও স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পাওয়ায় এবং ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সরকারি প্রণোদনা ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার রাউজানের অনাবাদি কৃষিজমিগুলো সোনালী সূর্যমুখীর হাসিতে ভরে উঠেছে, যা কৃষকদের ভালো আয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। রাউজান উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে ১৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন হলুদ সূর্যমুখীর সমারোহ, যা একদিকে ফুলে ফুলে দৃষ্টিনন্দন অন্যদিকে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সূর্যমুখী ফুল থেকে ভালো পরিমাণে তেল উৎপাদনের আশা করছেন কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রাউজানে কৃষক রঞ্জিত চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, ১ হেক্টর জমিতে এবার সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। ফলনও ভাল হয়েছে, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় প্রত্যাশিত ফলন পাওয়ার আশা করছি। তিনি আরও জানান, বাজারে সূর্যমুখী তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তেল ছাড়াও বীজ থেকে খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নে কৃষক আনোয়ার আজিম জানায়, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং তেলের ভালো দাম পাওয়া যাবে তাই এবার বেশী পরিমান জায়গাতে সূর্যমুখী ফুলে চাষ করেছি। কৃষিবীদদের মতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে গণ্য হবে পাশাপাশি ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে এবং দেশ ভোজ্য তেল স্বনির্ভরতা অর্জন করবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, এবছর উপজেলাজুড়ে প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সার, কীটনাশক সহায়তাসহ তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি বলেন আগামীতে এই উপজেলায় সৃর্যমূখী চাষ সম্প্রসারণে আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা পেলে এবার রাউজানে সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলনের মাধ্যমে কৃষকরা কোটি টাকার বেশি আয় করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত