ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

১২ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে জ্বালানিবাহী ১৬ জাহাজ

১২ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে জ্বালানিবাহী ১৬ জাহাজ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, মার্চের প্রথম ১২ দিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানিপণ্য নিয়ে ১৬টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, সেই মুহূর্তে এসব জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়। মার্চের প্রথম ১০ দিনে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ১ লাখ ৮০ হাজার টনেরও বেশি জ্বালানি খালাস করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, এই সময়ে আসা জ্বালানি চালানের একটি বড় অংশ ছিল এলএনজি। ৩ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে কাতার থেকে আসা তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ- আল জুর, আল জাসাসিয়া ও লুসাইল- এরইমধ্যে তাদের মালামাল খালাস শেষ করেছে। জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের তথ্যমতে, প্রতিটি জাহাজ প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে এসেছে। গত ১২ মার্চ আল গালায়েল নামক আরেকটি জাহাজ ২৬ হাজার ১৬৫ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে জাহাজটি থেকে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে। ১৪ মার্চের মধ্যে খালাসের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। ফলে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলেও এখন কোনো বাধা নেই। পাইপলাইনে থাকা জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়ে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কনটেইনার ডিপো ও লাইটারেজ জাহাজে ডিজেল সংকট এবং চাহিদা-সংক্রান্ত সব তথ্য বিপিসির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে জানানো হয়েছে। বিপিসি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পাশাপাশি পাইপলাইনে থাকা জাহাজগুলো দ্রুত আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং জনসচেতন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সম্ভাব্য যেকোনো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে ৬টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। আরও ৪টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে। বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল ও শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় এসে পৌঁছবে। সব মিলিয়ে আগামী দেড় মাসের সব ধরনের জ্বালানি পাইপলাইনে রয়েছে। তাই দ্রুত সংকটের কোনো শঙ্কা নেই। তবে নাশকতার আশঙ্কা আছে। দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি সংকটের সুযোগে জ্বালানিবাহী জাহাজে নাশকতা চালাতে পারে- এমন শঙ্কা থেকে বহির্নোঙরে অবস্থান করা জাহাজগুলোর বিশেষ নিরাপত্তা চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজে পরপর রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সংকটের শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিতে এমন নাশকতার চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা বন্দরের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানের চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় জ্বালানিবাহী ১৬টি জাহাজের অবস্থান রয়েছে। এরমধ্যে এলপিজিবাহী দুটি, এলএনজিবাহী পাঁচটি, গ্যাসবাহী দুটি, হাইপার সালফারবাহী দুটি, কেমিকেলবাহী একটি, ক্রুড অয়েলবাহী একটি এবং ডিজেলবাহী দুটি জাহাজ রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে আসা মর্নিং জেন ও ওমান থেকে আসা জিওয়াই এমএম এরইমধ্যে মোট ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি খালাস সম্পন্ন করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজ থেকে এখন কার্গো খালাস করা হচ্ছে। ৮ মার্চ ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান ৭ হাজার ৫০০ টন এলপিজি খালাস করছে, যা ৩০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, সেনা ৯ জাহাজটি ১ হাজার ৪০০ টন এলপিজি নিয়ে এসেছে; ১২ মার্চের মধ্যে এর খালাসের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আসা আরও দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার— এপিক সান্টার ও শুমি ৭- যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ টন ও ১ হাজার টন এলপিজি নিয়ে এসেছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব জাহাজের খালাস প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ৯ মার্চ সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি ও লিয়ান হুয়ান হু নামের দুটি ট্যাংকার। শিউ চিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ও লিয়ান হুয়ান হু জাহাজে ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তিন হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে এসপিটি থেমিস নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। ১৪ মার্চ র‍্যাফেলস সামুরাই ও চ্যাং হ্যাং হং টু নামের আরও দুটি ট্যাংকার ৬০ হাজার টন করে ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবোঝাই দুটি অয়েল ট্যাংকারের পর আরও ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে তিনটি ট্যাংকার।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত