ঢাকা রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রোয়াংছড়িতে পানির তীব্র সংকট

রোয়াংছড়িতে পানির তীব্র সংকট

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের শঙ্খমনি পাড়া এবং ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সূর্যবান পাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানির সংকটে ভুগছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই দুই ইউনিয়নের মানুষ একই সমাজে বসবাস করে আসছে। প্রায় ৫৬টি পরিবারের একটি যৌথ গ্রাম হলেও তাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আজও নিশ্চিত হয়নি। গ্রাম দুটির একমাত্র পানির উৎস একটি ছোট মরা ঝিরি। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই এই ঝিরিটি প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে পানির তীব্র সংকটে পড়েন গ্রামের মানুষ।

গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা জুম চাষের সঙ্গে জড়িত। ভোর হতেই তারা নিজ নিজ জুমে কাজ করতে চলে যান এবং সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফেরেন। দিনের পরিশ্রম শেষে বাড়ি ফিরে সবাই চায় গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে, কিন্তু পর্যাপ্ত পানির অভাবে তা সম্ভব হয় না। টয়লেট থেকে শুরু করে রান্নাঘর- সব কিছুই পানির ওপর নির্ভরশীল। অথচ সেই মৌলিক পানিরই অভাব এই দুই গ্রামে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য পরিষ্কার পানি অপরিহার্য। কিন্তু অপরিষ্কার ও দূষিত পানির কারণে এখানে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা সব সময়ই থাকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন- পানির অভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সবাই জানার পরও কেন এই গ্রামবাসীদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না? তাহলে কি কলেরা, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগে তাদের জীবন কাটাতে হবে? স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৪ সালে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহের একটি ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থা মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শঙ্খমনি ও সূর্যবান পাড়ার মানুষ। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে স্থায়ীভাবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত