ঢাকা রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সর্তা খালের বিপজ্জনক বাঁকে বিলীন হচ্ছে বহু বসতভিটা

সর্তা খালের বিপজ্জনক বাঁকে বিলীন হচ্ছে বহু বসতভিটা

রাউজান উপজেলা দিয়ে প্রবাহমান সর্তা খালের নোয়াজিশপুর এলাকায় একটি বিপজ্জনক বাঁক দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালের ওই ইউ-টার্ন আকৃতির বাঁকে পানির তীব্র স্রোত সরাসরি তীরবর্তী বসতভিটা ও ফসলি জমিতে আঘাত হানায় শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও এখনও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রকল্প হাতে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই বাড়ে আতঙ্ক, কমে বসতভিটা। সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, নোয়াজিশপুর এলাকয় চলতি বর্ষ মৌসুমে সর্তা খালের প্রবল স্রোতে কারণে বেশ কিছু বতবাড়ী ভাঙ্গন ঝুঁকিতে দিনাতিপাত করছে। যেকোন সময় বসতবাড়ী ও গ্রামীন রাস্তাঘাট খালের মধ্যে বিলিন হয়ে যেতে পারে। জানাযায় গত কয়েক দশকে বিলীন হয়ে গেছে শত শত একর আবাদি জমি, অসংখ্য বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক। অনেক পরিবার তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। উপজেলার নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরেকৃষ্ণ মহাজনের বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনিল নাথ, রাধাশ্যাম নাথ, পরেশ নাথ, রাখাল নাথ, পূর্ণ নাথ, গোবিন্দ নাথ, সজল নাথ, চন্দন নাথ ও কাজল নাথসহ শতাধিক পরিবার এরইমধ্যে খালের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিলীন হয়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কানি ফসলি জমি। স্থানীয় বাসিন্দা মিঠন কান্তি নাথ ও ঝন্টু নাথ বলেন, সর্তা খালের এই বাঁক আমাদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে। একটু একটু করে ভিটেমাটি খালের গর্ভে চলে যাচ্ছে। প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই বাঁকটি কেটে সোজা করা হলে ভাঙন অনেকটাই কমে যাবে।’ স্থানীয়দের মতে, খালের এই বাঁকই ভাঙনের মূল কারণ। পানির স্রোত বাঁকের কারণে তীব্র হয়ে সরাসরি তীরভূমিতে আঘাত করে। ফলে প্রতি বছরই ভাঙনের পরিধি বাড়ছে।

এদিকে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। গত বছরও কয়েকটি পরিবারের বাড়ির আঙিনা খালের গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আরও বহু বসতঘর ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় তপন নাথ বলেন, সর্তা খালের এই ইউ-টার্ন আকৃতির বাঁকটি কেটে সোজা করে দিলে ভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। অথচ এতদিনেও কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভাঙনরোধী প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি খালের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটি কেটে সোজা করার উদ্যোগ নিওয়া। অন্যথায় অচিরেই আরও বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিন্নাত আরা বলেন, সর্তা খালের ওই স্থানে ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত