
জনবসতি নেই, যাতায়াতের রাস্তাও নেই, চারপাশে শুধু বিস্তীর্ণ ধানি জমি। কিন্তু সেই ফসলি জমির এক প্রান্তেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকার চারটি পাকা ব্রিজ। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় নির্মিত এসব ব্রিজে কোনো যানবাহন বা মানুষের চলাচল নেই। প্রায় আট বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজগুলো এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার পচা ভাগাড়ে।
দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। জানা যায় ২০১৯ সালে তৎকালীন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নেয়া ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় নির্মিত (প্রতিটি ব্রিজে ২৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা) প্রতিটি ব্রিজ ৩০ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রশস্ত। দুটি ব্রিজের মধ্যবর্তী দূরত্ব মাত্র ২০০ ফুটের মতো। ব্রিজ গুলো সরকারিভাবে মন্ত্রী দিয়ে উদ্বোধন করা হয়। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কের সঙ্গে লাগোয়া এসব ব্রিজের দক্ষিণ পাশে শুধুই ফসলি জমি। ব্রিজগুলোর সামনে চারটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা আছে। এতে নাম দেওয়া হয়েছে ‘দক্ষিণ রাউজান খাদ্যগুদাম সড়ক বক্স কালভার্ট’,‘দক্ষিণ রাউজান হাইওয়ে থানা সড়ক বক্স কালভার্ট’, রাউজান-রাঙ্গুনিয়া পুলিশ সার্কেল কার্যালয় কালভার্ট’ এবং ‘দক্ষিণ রাউজান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সড়ক কালভার্ট’। কিন্তু বাস্তবে কোনো সরকারি দপ্তরের ভবন তো দূরের কথা, জমি অধিগ্রহণেরই কোনো খবর নেই।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা জনগণের কাছে প্রচার করেছিল এখানে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা হবে। কৃষকরা ধানখেতে এসব কালভার্ট নির্মাণের বিরোধিতা করলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মূলত রাস্তার পাশের মহামূল্যবান ফসলি জমি গ্রাস করে আবাসন ব্যবসা বা ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সরকারি তহবিলের টাকা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব ব্রিজ বানানো হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
তৎকালীন রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (বর্তমানে হাটহাজারীতে কর্মরত) নিয়াজ মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি ছোট কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ তাদের ছিল না। অন্যদিকে জমির মালিকানা বিষয়ে রাউজান সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা জানান, ওই সময়ে এসব স্থাপনার জন্য কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল কিনা সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের দপ্তর সংগৃহীত নেই। পরিকল্পনাহীনভাবে নির্মিত এই অপ্রয়োজনীয় ব্রিজগুলো সরকারি অর্থ এই অপচয়ের সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন রাউজানের সচেতন নাগরিক সমাজ।