ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সেতুটির টোল আদায়সংক্রান্ত দরপত্রের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাঁশখালীর সমাজকর্মী ও জুলাইযোদ্ধা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন বলে জানান রিটকারী মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, সম্প্রতি তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরের জন্য সেতুটিতে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত টোল আদায়ের ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তির আওতায় নতুন কোনো দরপত্র গ্রহণ বা খোলা, দরপত্র অনুমোদন, ইজারাদার নিয়োগ ও ইজারা চুক্তি সম্পাদন এবং সেতু ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে যেকোনো উপায়ে টোল আদায়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। রিটকারী নিজাম উদ্দিন আরও বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতু দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। নতুন করে টোল আরোপের উদ্যোগে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জনস্বার্থে এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোলসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের জনগণকে শান্ত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তৈলারদ্বীপ সেতু দিয়ে বাঁশখালী ছাড়াও পটিয়া, আনোয়ারা এবং কক্সবাজারের পেকুয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও কুতুবদিয়া এলাকার মানুষ ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের আগে ভাঙনরোধ ও সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও ভোট শেষ হলে সব ভুলে যান জনপ্রতিনিধিরা। খালের ভাঙনে এরইমধ্যে অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। পুকুরপাড় ও জমির আইল ধরে চলাচল করতে হয় মানুষকে। চরখিজিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, যুগ যুগ ধরে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শুনে আসা এই এলাকার মানুষগুলো এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না, তারা এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সেতুর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চান। বোয়ালখালী এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. ফারুকের হোসেন বলেন, উপজেলা থেকে বিছিন্ন জনপথ ননায়মার ঘাট এলাকায় একশত বিশ মিটার সেতু নির্মাণ,ওপারের ১ কি: মিটারের সড়ক নির্মাণের জন্য মৌজা মেপসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত প্রস্তাবনাটি পাশ হলে সেতুর কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত