
দুইমাস সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞায় অন্তত ৫০ হাজার জেলে বেকার হয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।
সুন্দরবনে কাঁকড়া ও মাছ ধরে জীবন চলে অন্তত ৫০ হাজার জেলে পরিবারের। অথচ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি ২ মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরা যে কারণে হতাশ হয়ে পড়েছে কাঁকড়া ধরে জীবন রক্ষাকারী পরিবারগুলো।
এখন তারা পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন অতিবাহিত করছে। প্রতিবছর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ২ মাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এই ২ মাস প্রায় ৫০ হাজার জেলে পরিবার চরম বিপাকে পড়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন অতিবাহিত করে। জেলেরা জানান, প্রতিবছর বিকল্প কর্মসংস্থান না করে কাঁকড়া ধরার নিষেধাজ্ঞা আসায় আমাদের পরিবার
পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম জীবন অতিবাহিত করতে হয়।
২ মাস আমাদের ধার-দেনা করে জীবন পার করতে হয়। সরকারি সহায়তা থাকলেও তা আমাদের পর্যন্ত আসে না। এমনিতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেশি তার উপর মহাজনদের সুদের চাপ আমাদের সংসার চালান খুবই কষ্টকর।
জেলে পরিমল বলেন, আমার সংসারে ৬ জন সদস্য রয়েছে, একমাত্র আমার কাজের উপর নির্ভরশীল তারা। আমি সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরে সংসার পরিচালনা করি, কিন্ত তা বন্ধ থাকায় হাড়ি সিকেই উঠেছে।
কথা হয় কাঁকড়া শিকারি মুন্সীগঞ্জে কবির মাঝির সঙ্গে তিনি বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকে শিখেছি সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ এখন অন্য কোনো কাজ শিখিনি যে কারণে সংসার চালাতে অন্য কোনো পথ জানা নেই। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে কাজের সন্ধানে অন্যত্র পাড়ি জমাতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বুড়িগোয়ালিনী বন অফিসের স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার জিয়াউর রহমান বলেন, প্রতিবছর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুই মাস কাঁকড়া ধরা বন্ধ থাকে সেখানে আমাদের কোনো হাত থাকে না।