ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

১৭ মাস পর শনাক্ত হলো শহিদ সোহেল রানার লাশ

১৭ মাস পর শনাক্ত হলো শহিদ সোহেল রানার লাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত হিসাবে দাফনকৃত শহিদদের লাশ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা সোহেল রানা (৩৭)সহ ৮ জন শহিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই লাশ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিআইডি।

শহিদ সোহেল রানা মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় সে। তবে সেসময় পরিবারের অগোচরে তার লাশ বেওয়ারিশ ভাবে রায়েরবাজারের গণকবরে দাফন করা হয়েছিলো। গনঅভ্যুত্থানে ছেলে শহিদ হয়েছে বলে জানতে পারলেও দীর্ঘ ১৭মাস ধরে স্বজনের লাশের অবস্থানে অপেক্ষায় ছিলো পরিবার।

পরিবার সূত্রে জানাযায়, ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সোহেল ছিলো সবার বড়। দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই চাইতেন সোহলে রানা। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোজ হয় মো. সোহেল রানা তবে এরপর আর খোঁজ মিলেনি তার। ৩ দিন পর ঢাকা মেডিকেলের মর্গসহ বিভিন্ন জায়গায় হন্য হয়ে খোঁজেও পায়নি তাকে। ৩৪ দিন পর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারেন তার পরিবার।

সোহেলের ভাই জুয়েল ও নাবিল জানান, আমার ভাই দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই তিনি চাইতেন। শাহাবাগ থানা থেকে জানানো হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজলা যাত্রাবাড়িতে সোহলকে শাররিক নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীওে এত পরিমান গুলি ছিল সেটা গুনে শেষ করা যায়নি। সোহেলের মৃত্যু নিশ্চিতে সনদ হিসাবে একটি কাগজ পাই। সেই সাথে শাহাবাগ থানা অজ্ঞাত-২৮ জিডি নাম্বার ১৩৫৯ এর কপি আর কিছু বিভৎস ছবি। রায়েরবাজার কবরস্থানে সোহেলকে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করা হয়।

এদিকে, অবশেষে দীর্ঘ ১৭ মাস পর সন্তানের লাশ সনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পরে শহিদ সোহেল রানার মাসহ পরিবারের সদস্যরা। আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। শনাক্ত হওয়া অন্য শহিদরা হলেন- শহিদ ফয়সাল সরকার, শহিদ পারভেজ বেপারী, শহিদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহিদ মাহিম (২৫), শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম (২৯)।

সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত লাশ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি লাশ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহিদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরইমধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহিদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত