ঢাকা সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

টপ সয়েল কাটায় কমছে ফসল উৎপাদন

টপ সয়েল কাটায় কমছে ফসল উৎপাদন

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে দিন-রাত চলছে মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রাকটার। অবৈধ মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুতেই মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস ও কৃষি বৈচিত্র্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাউৎগাঁও, কাদিপুর, জয়চন্ডী, ভুকশিমইল, টিলাগাঁওসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আবাদি কৃষিজমির উপরের অংশের উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এক শ্রেণির চিহিুত মাটি ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের নগদ অর্থের বিনিময়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও নতুন বসত বাড়ি তৈরির কাজে বিক্রি করছেন। ভাটার মালিকরা ইট তৈরির কাজে তুলনামূলক কম দামে মাটি কিনে ভাটায় স্তূপীকৃত করছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এই সব এলাকা থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ভাটায়। দিবারাত্রি মাটিবাহী গাড়ি চলাচল করলে ও তাদের দৌরাত্ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। এই মাটি বাহী গাড়িগুলো উন্মুক্তভাবে পরিবহন করার কারণে সর্বত্র ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। যার ফলে পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয়রা। এছাড়া ভারি ট্রলি ও ট্রাকটার অবাধে চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তাঘাটের অবস্থা নষ্ট হয়ে পড়েছে। এলাকার কৃষক রেজাউল ইসলাম, আয়াস মিয়া ও কাদির মিয়া জানান, আশপাশের ইটভাটা, বসতবাড়ি নির্মাণ, রাস্তা তৈরি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ জমির উপরের মাটি কাটায় কৃষিজমি উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে আবাদি কৃষিজমি। পরিবেশকর্মী সালেহ আহমেদ বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগেই থাকে উর্বর মাটি। অথচ জমির উপরের এক থেকে দুই ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে সেখানকার জমিতে তৈরি হচ্ছে গর্ত এবং উর্বরতা হারিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি বৈচিত্র্য। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশেদ আহমেদ বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি খুবই জটিল বিষয়। উর্বর মাটির ছয় ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে পরের বছর ভালো ফলন হয় না। প্রচুর গোবর-সার ও পলিমাটি দিয়ে মাটি তৈরি করতে হয়। পুনরায় মাটির উর্বরতা সৃষ্টি হতে কমপক্ষে দশ থেকে পনের বছর সময় লেগে যায়। এটি কৃষিজমির জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং বিপদজনক।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও যেসব এলাকায় এভাবে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা হচ্ছে সেসব এলাকায় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত