
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা আহত হওয়ার পর অবশেষে জুয়া ও মাদকের আস্তানা ভাঙচুর করে আগুনে পুড়ালেন গ্রামবাসী। গত রোববার রাতে উপজেলার টানকালিয়াকৈর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়বে বলে মনে করছেন ওই গ্রামবাসী।
এলাকাবাসী ও মাদক বিরোধী কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে মাদকের ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছেন শিশু শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি ও পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আর মাদকের যোগান পেতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীরা। সব সময় তাদের ছোবলের আতঙ্কে থাকেন মানুষ। মাদকের বিস্তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে উপজেলার টানকালিয়াকৈর এলাকার মানুষ মাদক বিরোধী কমিটি করেন। তারপরও মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারী সন্ধ্যার পর উপজেলার টানকালিয়াকৈর এলাকায় হামলা ও মারধরের শিকার হন গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। হামলা চালিয়ে আটক হাবিব নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেয় তার সহচররা। তাদের হামলায় গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন, এসআই বাকের, এসআই আরিফসহ টিমের ৭ জন আহত হন। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
দুদিন পর গত মঙ্গলবার রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহ আলম, তার স্ত্রী শায়লা বেগম ও তাদের সন্তান শাকিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তারপরও যেন অবাধে বিচরণ করছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা। তারা ওই এলাকার ঘাটাখালী নদীর তীরে ঝুপে তাবু টাঙিয়ে আস্তানা তৈরি করে। দিনে-রাতে সেখানে জুয়া খেলে ও মাদক সেবন থেকে শুরু করে কেনা-বেচা হয় মাদক। বিষয়টি টের পেয়ে গত রোববার রাতে ওই আস্তানা ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে তাবু, তাসসহ মাদক পুড়িয়ে দেয় গ্রামবাসী। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু এরপর গা ঢাকা দিয়েছেন ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়বে বলে মনে করছেন ওই গ্রামবাসী।
ওই মাদক বিরোধী কমিটির দায়িত্বরত একজন সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌর যুবদলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান শিপলু জানান, কিছুদিন আগে অভিযানের সময় হামলার শিকার হন প্রশাসনের লোকজন। এ বিষয় নিয়ে ওইদিন সাবেক দুই কাউন্সিলর মহসিন উজ্জামান ও মাসুম আলীসহ আমরা এলাকাবাসী বসেছিলাম। পরে সবাই মিলে ওই আস্তানা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সবাই এগিয়ে এলে শুধু মাদকের বিরুদ্ধেই নয়, বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন জানান, শুনেছি আগুন দিয়ে মাদকের আস্তানা পুড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুত ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। এর আগে গত মাসেও মাদকের বিষয়ে তিনটি অভিযান চালানো হয়েছে। সে বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মাদকের বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।