
জেলা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের পালগীরি গ্রামের পালগিরি বেগম রাবেয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও থানা বিবি দিঘি সংলগ্ন ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন পালগীরি ঐতিহাসিক জামে মসজিদ। ১৬১৬ সালে খন্দকার বাড়ির খন্দকার হযরত মাওলানা শাহসুফী আলী বদ্দিন খন্দকার ঝোপ পরিষ্কার করার সময় গম্বুজ আকৃতির কিছু দেখতে পেলে তিনি তা পরিষ্কার করলে মাটির নিচে এ মসজিদের সন্ধান পান। প্রথমে গম্বুজ, পরে মাটি খনন করলে মসজিদটি ভেসে উঠে। তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক এ মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করে নামাজ আদায় করার উপযোগী করে তোলেন। যেখানে ১০-১৫ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারতো।
ধারণা করা হয়, এটি মোগল আমলের নির্মিত একটি মসজিদ। প্রাকৃতিক যে কোনো কারণেই হোক এ মসজিদটি বহু বছর মাটির নিচে ছিল। বহু বছর আগে যখন জনমানব কম ছিল, ওই সময় মসজিদটি নির্মাণ করা হয়ে থাকতে পারে। যা মোগল সভ্যতার নিদর্শন বহন করে। এ মসজিদটিকে ঘিরে আরও অনেক অজানা তথ্য রয়েছে। মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে পালগীরি পাটওয়ারী বাড়ির সৈয়দ আহমদ পাটোয়ারী মসজিদের নামে ২০ শতক সম্পত্তি ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে মূল মসজিদটির অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদের দুইপাশে ও পেছনের অংশ পাকা করা হয়। সেখানেই বহু বছর নামাজ আদায় করতেন মুসল্লিরা।
মুসল্লিদের নামাজের সুবিধার্থে ২০২২ সালে পাটোয়ারী বাড়ির মৃত আজিজুর রহমানের তিন ছেলে হুমায়ুন কবির, বিল্লাল হোসেন ও মাহবুবুর রহমান মসজিদটির উত্তর পাশে নতুনভাবে একটি ভবন করে মসজিদের নামাজ আদায়ের জায়গা আরও প্রশস্ত করে দেন। ফলে এখন একসঙ্গে বহু মানুষ নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদ কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খন্দকার ও সাধারণ স¤পাদক বিল্লাল হোসেন পাটোয়ারীসহ স্থানীয়রা প্রাচীনতম ঐতিহাসিক পালগীরি পুরানো মসজিদটির সংস্কার করে সংরক্ষণ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।