ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নবীনগরে সূর্যমুখী চাষ বাড়ছে

নবীনগরে সূর্যমুখী চাষ বাড়ছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের বিকল্প লাভজনক ফসলের দিকে উৎসাহিত করতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই আবাদ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল। এর বীজে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল থাকে। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে বিঘাপ্রতি ৪ থেকে ৫ মন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লিটার তেল উৎপাদন করা যায়। ফলে কৃষকদের জন্য এটি লাভজনক একটি ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লাউরফতেহপুর, ইব্রাহিমপুর, বীরগাঁও ও নাটঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে ক্লাস্টার আকারে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে।

বিস্তীর্ণ জমিতে ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলের মনোরম দৃশ্য এরইমধ্যে স্থানীয়দের দৃষ্টি কেড়েছে। বিশেষ করে বিকালের দিকে এসব খেতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে সেখানে ভিড় করছেন।

নবীনগর পৌরসভার দোলাবাড়ি এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান এ বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রথমবারের মতো এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। তিনি জানান, ধানের বিকল্প হিসেবে এই ফসল চাষে তিনি আগ্রহী হয়েছেন। মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গাছে ধীরে ধীরে পুষ্পমঞ্জরিতে দানা গঠিত হচ্ছে এবং ফসল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান নবীনগর-মুরাদনগর সড়কের পাশে প্রায় তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বছরের শুরুতেই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সূর্যমুখীর আবাদ করেছি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজ ও পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করছি এ জমি থেকে প্রায় ১০ মণ বীজ পাওয়া যাবে, যা থেকে তেল উৎপাদন করা হবে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, ধান ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয়ভাবে ভোজ্যতেল উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, সূর্যমুখীর তেলে ভিটামিন-ই ও স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট বেশি থাকে। এটি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (খউখ) কমাতে সহায়তা করে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এছাড়া এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে অনেকেই সূর্যমুখীর তেলকে স্বাস্থ্যকর রান্নার তেল হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ নিয়মিতভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ে পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত