ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

স্বস্তির বৃষ্টিতে চা বাগানে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে

* দীর্ঘ খরার পর সেই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে চা গাছগুলোতে
স্বস্তির বৃষ্টিতে চা বাগানে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে

মৌলভীবাজার জেলায় প্রায় নব্বইটি চা বাগান রয়েছে। জেলার শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর জুড়ি ও বড়লেখার চা বাগানগুলোতে গত শুক্র ও শনিবার নেমে এলো বহু কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। দীর্ঘ খরার পর সেই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে চা গাছগুলোতে। গত শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পড়ল ৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তারপর দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টায় আবারও জোরে নামল ৩২.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি। সব মিলিয়ে দিনের শেষে রেকর্ড হলো ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। গত শনিবার দিন ও রাতে হয়েছে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সারা জেলায়।

চা বাগানের শ্রমিকেরা যখন ভেজা মাটিতে পা রাখলেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি। এতদিন ধরে শুষ্ক হয়ে থাকা মাটিতে আবার ফিরে এসেছে আর্দ্রতা। ছাঁটাই করা গাছগুলো যেন নতুন করে নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে। এখন দ্রুত গজাবে চা পাতার কুঁড়ি। চা বাগানগুলোতে ফিরবে কর্মচাঞ্চল্য।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন বলেন, চা গাছের বেড়ে ওঠা আর পাতা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। বছরে দুই হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত চা শিল্পের জন্য আদর্শ। আর একটি পরিণত চা গাছ শীতকালে গড়ে ১.৩ মিলিমিটার এবং গ্রীষ্মকালে প্রায় ৬ মিলিমিটার পানি প্রয়োজন হয়।

গত জানুয়ারি থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানেই সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কোথাও পানির উৎস নেই, কোথাও জলাধার শুকিয়ে গেছে। ফলে স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রকৃতির এই হঠাৎ দান যেন সব চিন্তা দূর করে দিল। এখন বাগানের ডালপালায় ধীরে ধীরে উঁকি দেবে সেই কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি।’

দীর্ঘ খরার জেলার সব চা বাগানগুলো আবার সবুজে ভরে ওঠার অপেক্ষায়। আর বাগানজুড়ে শ্রমিকদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন নতুন মৌসুমে কুঁড়ি ভরা ঝুড়ি নিয়ে ফিরবে প্রাণবন্ত দিন, যেখানে সারাটা দিন চলবে চা পাতা তোলার কাজ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত