
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত। আর এসব কুকুরের কারণে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাসহ অন্যান্যরা। দিনের বেলায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হলেও রাত হলেই কুকুরের চিৎকারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে ক্যাম্পাসের পরিবেশ।
গত এক মাসে ৪০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ও কর্মচারী কুকুরের তাড়া খেয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। প্রশাসনের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কুকুরের আক্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলের মতো প্রাণীরাও এসব কুকুরের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এসব পোস্টে দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন তারা।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কুকুরের এই উৎপাতের চিত্র দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় মাঠ, সিঙ্গারা হাউজ, চারুদ্বীপ, বিদ্রোহী হলের সামনের এলাকা, অগ্নিবীণা হল এলাকা, নতুন প্রশাসনিক ভবন, ফার্স্ট গেট, সেকেন্ড গেট ও বটতলাসহ প্রায় সব জায়গায় বর্তমানে বেওয়ারিশ কুকুরের ছড়াছড়ি। অনেক জায়গায় দলবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা করে পথচারীদের তাড়া করছে তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রাতে হল থেকে বের হয়ে লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কয়েকটা কুকুর আমাকে ঘিরে ধরে তাড়া দেয়। খুব কষ্টে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছি। এখন রাতে একা বের হতে ভয় লাগে।’
আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা মেয়েরা তো আরও বেশি সমস্যায় পড়ি। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে কুকুরের ভয় সবসময় থাকে। ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছি না।’
জাককানইবি এনিমেল ওয়ালফেয়ারের সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ঐশিক নূর বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা একটি সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করতে যাচ্ছি। এই সেমিনারের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে কুকুরের আচরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত করবো। ওয়ার্কশপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কুকুর ও বিড়ালগুলোকে টিকার আওতায় আনবো।