ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সারা দেশে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু

সারা দেশে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু

আলোকিত বাংলাদেশ

ঢাকাসহ সারা দেশে হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় ৩ লাখেরও বেশি শিশুকে হামণ্ডরুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার নগরীর মেমন-২ চসিক জেনারেল হাসপাতালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইন ২০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, এবারের ক্যাম্পেইনে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে।

কক্সবাজার : কক্সবাজারে হাম-রুবেলার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মো. শামীম আল ইমরান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম কবির। এ সময় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল, ইউনিসেফ প্রতিনিধি ডা. মঈদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৬২৩ জন শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১১২ জন শিশু, যার মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১ জন। মৃতদের মধ্যে মহেশখালী, রামু ও সদরে দুইজন করে এবং কুতুবদিয়ায় একজন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৭০ জন শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা হবে। এরমধ্যে স্থানীয় শিশু রয়েছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৯৪২ জন এবং রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৮ জন। কর্মসূচির আওতায় ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ১১ কর্মদিবসে জেলার ৯টি উপজেলায় ১ হাজার ৭৮২টি কেন্দ্রে স্থানীয় শিশুদের টিকাদান করা হবে। পাশাপাশি ২৬ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ৮ কর্মদিবসে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় শিশুদের সুরক্ষায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মোট ৪৮ হাজার ৭৮১ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলায় মোট ৫৪২টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন ইপিআই ও আউটরিচ কর্মীসহ মোট ৪৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী।

এছাড়া টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থায়ী টিকাকেন্দ্র ৩১২টি এবং ইপিআই কেন্দ্র ১টি রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে আয়োজিত এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাম ও রুবেলা শিশুদের জন্য অত্যন্ত সংক্রামক ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। এসব রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে টিকাদানের বিকল্প নেই। তিনি সব অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ে তাদের সন্তানদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।’ এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বর্মন বলেন, শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সব অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে এসে তাদের সন্তানদের টিকা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাঞ্ছারামপুর সরকারি হাসপাতালে এই মূহুর্তে ৪ জন হাম উপসর্গ নিয়ে ৪ জন শিশু ভর্তি আছে। গত কয়েকদিনে মোট ১১জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২ জনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

রাজশাহী : গতকাল সোমবার থেকে আগামী ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর ৪৩৮টি কেন্দ্রে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা দেওয়ার পরে অনেকে অসুস্থ হতে পারে, জ্বর হতে পারে আপনারা কোনো ভয় পাবেন না। কোনো শিশু যেন এ টিকা থেকে বাদ না পড়ে সেদিকে সবাই লক্ষ্য রাখবেন বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীতে আরবান পিএইচপি সেন্টারে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাসিক প্রশাসক এসব কথা বলেন।

মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, আমরা চাই হাম-রুবেলা প্রতিরোধে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটি যেন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি এবং নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে পারি। আমাদের এতগুলো প্রাণ ঝরে গেছে এই জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত এবং মর্মাহত। বিগত সরকারের আমলে দুই বছর টিকা ক্যাম্পেইনের অভাবে আমাদের দেশে অনেক শিশুর তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। আমরা চাই না আগামী দিনে কোনো শিশু হাম রোগে মৃত্যু বরণ করুক।

তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে হামের প্রকোপ যখন বেড়ে গিয়েছিল তখন আমরা সচেতনতামূলক একটি লিফলেট তৈরি করি। এই লিফলেট প্রায় ৭০ হাজার পরিবারের নিকট এবং বিভিন্ন দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই রাজশাহী মহানগরী নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে উঠুক। সেজন্য এখানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন এবং যারা এই শিশুদের জন্য কাজ করছেন তারা সতর্ক থাকবেন যেন অবহেলা না হয়। এ সময় তিনি মহানগরীর সব অভিভাবকদের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান এবং শিশুদের মধ্যে কোনো হামণ্ডরুবেলা রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন।

অনুষ্ঠানে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব মো. সোহেল রানা, রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম, আরএমপি‘র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ড. কুস্তরী আমিনা কুইন এবং রাসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকা দান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকা দান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম।

বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সুমন সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি এম আব্দুল হালিম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ আফরোজ, শিক্ষা অফিসার মো. আহসান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মানিক প্রমুখ।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, টিকা দান ২০ এপ্রিল থেকে শুরু করে ১০ মে পর্যন্ত ১১ দিন কার্যক্রম চলবে। এরমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ দিন বাকি কমিউনিটিতে ৮ দিন টিকা প্রদান করা হবে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে ৫২ হাজার ২৬৮ শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা। এজন্য গণমাধ্যমে বেশি করে প্রচারের প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মারাত্মক এই রোগ থেকে আমাদের শিশুরা রক্ষা পাবে। এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২ জন শিশু এরমধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ৫ শিশুর।

ঠাকুরগাঁও : শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয়েছে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। গতকাল সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। উদ্বোধনের পর থেকেই জেলার সর্বত্র একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।

টীকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৫১১ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৩৬৩টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৬টি স্থায়ী এবং ১ হাজার ৩৫৭টি অস্থায়ী কেন্দ্র। ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুদের এই টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার শিশুদের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যাপক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এজন্য অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ইফতেখাইরুল ইসলামসহ অনেকে ।

কাউখালী (পিরোজপুর) : পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অস্থায়ী হলরুমে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতত থেকে স্বাস্থ্য সেবিকা তন্বী শিশু আহনাফ শেখকে টিকা প্রধানের মধ্য দিয়ে টিকা দেওয়া কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার জানান, দেশের ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় এই কর্মসূচি শুরু হয় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বাকি সব উপজেলা ও পৌরসভায় তা চলবে, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, কাউখালী উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮টি করে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এমআর ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। সব মিলিয়ে উপজেলায় মোট ১২০টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন করে স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৫৭২ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে ৬ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এমওডিসি ডা. অমৃতা সরকার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক, রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা ইপিআই কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জেও একযোগে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বিশেষ অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদ বলেন, সারাদেশের ন্যায় কালীগঞ্জেও হাম-রুবেলা থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত সর্বমোট ১১ দিন টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও অস্থায়ী ১৯২টি কেন্দ্র ও ১টি পৌরসভা এবং ৭টি ইউনিয়নের স্কুল পর্যায়ে ৪৮টি কেন্দ্রে ৩১,০৬৬ জন শিশুদের বিনামূল্যে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান করা হবে।

হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোসা. নাহিদা খাতুন, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মুনমুন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর-ই-জান্নাত, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, সমাজসেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.তানজিরুল ইসলাম রায়হান। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে পৌরসভাস্থ ওয়াইএমসিএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইনের আওতায় নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের বিনামূল্যে হামণ্ডরুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিশুদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি। সবাইকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে সচেতন করবেন বলেও জানানো হয়েছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। গতকাল সোমবার সকালে শরীয়তপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য সরদার নাসির উদ্দীন কালু এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শরীয়তপুরে আজ থেকে আগামী ১০ মে পর্যন্ত জেলার মোট ১ হাজার ৬৩১টি টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৭৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে সব অভিভাবককে নির্ধারিত সময়ে তাদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা প্রদানের আহ্বান জানান এমপি সাইদ আহমেদ আসলাম।

সিংড়া (নাটোর) : নাটোরের সিংড়া উপজেলায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুরু হয়েছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নাটোর জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কামাল আহমেদ ভূঁইয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলামসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য চিকিৎসকরা।

উদ্বোধনকালে অতিথিরা শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে মুক্ত রাখতে সঠিক সময়ে টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সিংড়া উপজেলার প্রতিটি প্রান্তে টিকার সুবিধা পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম সফল করতে ৩৯৬টি সাব-ব্লগে টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় পুরো উপজেলায় মোট ৩৪,৮৫৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ ক্যাম্পেইনের প্রথম দিনে ২,২২৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত, জেলা তথ্য অফিসার জাহারুল ইসলাম,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ডা. রাশেদ উদ্দিন মৃধা, শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় সাতক্ষীরা জেলায় মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। নির্ধারিত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেলাজুড়ে মোট ২ হাজার ৪১৭টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ আফরোজা আখতার বলেন, হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে এ টিকার আওতায় আনার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

চান্দিনা (কুমিল্লা) : গতকাল সোমবার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে, চান্দিনা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হয়েছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হাম নির্মূলের লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৭ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আতিকুল আলম শাওন। তিনি টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. আশরাফুল হক এবং চান্দিনা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব রওশন আরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা জনাব ডাক্তার মো. আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সভাপতি তার বক্তব্যে টিকাদান কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, শিশুদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নওগাঁ : নওগাঁয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা সিভিল সার্জনের আয়োজনে সিভিল সার্জন চত্বরে ক্যাম্পেইন শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে যুক্ত ছিলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এ সময় জেলা সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জিন ডা. মুনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রুহুল আমিন ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক গোলাম মো. আজম বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ.ম. আখতারুজ্জামান, আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আবু জার গাফ্ফার, সিভিল সার্জিন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. নুজহাত তাবাসসুম, সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আবু মো. শফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা।

গুরুদাসপুর (নাটোর) : শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাম-রুবেলা রোগ সম্পুর্ণ ভাবে নির্মুল করার লক্ষে নাটোরের গুরুদাসপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা আফরোজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাসসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুকে গুরুদাসপুর উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৪৭৩ জনকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হবে। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অভিভাবককে তাদের সন্তানদের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা : হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় এ জেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ লাখ ৩০৫ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০২০ সালে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর এই চলতি বছরে ২০২৬ সালে এ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হলো। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে চলতি মাসের ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত। এই হাম-রুবেলা টিকা পাবে জেলার ১ লাখ ৩০৫ শিশু। এরইমধ্যে টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া জেলা এ্যাডভোকেসি সভা, জেলা কো-অর্ডিনেশন মিটিং এবং টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে মাইকিং-এর প্রচার কার্যক্রম চলমান আছে। জেলায় আউটরিচ টিকাদান কেন্দ্র আছে ৯৮০টি। এর মধ্যে টিকাদানের মোট স্থায়ী কেন্দ্র ৮টি। এই টিকাদান কার্যক্রমে সরকারী ও বেসরকারি ভাবে মোট কর্মীর সংখ্যা ৩৪১ জন। যেখানে এ ক্যাম্পেইন সেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে ১ হাজার ৯৯৮ জন।

সিভিল সার্জন সূত্রে আরও জানা গেছে, সদর হাসপাতালে ১৫ মার্চ থেকে চুয়াডাঙ্গায় হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হয়েছে সদর হাসপাতালে ৪২ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন। বর্তমানে ৬ শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিকেল অফিসার ডা. খন্দকার ইমরান হাফিজ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শামিমা ইয়াসমিন, সদর হাসপাতালের শিশু বিষেশজ্ঞ ডা. আসাদুর রহমান মালিক খোকন, প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। যে কারণে এই হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলো আজ থেকে। এই টিকার মাধ্যমে এই হাম-রুবেলা ঠেকানো সম্ভব। হামের টিকা দেওয়ার আগে সব শিশুকে শারিরীক স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে নেওয়ার পর এই টিকার দেওয়ার অনুরোধ রইল। সব শিশুকে বেশি বেশি করে পানি, জুস, ভালো মানের খাবার খাওয়ানো উচিত। হাম আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ওই শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত