ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণে পাঁচ জেলে মুক্ত

সুন্দরবন থেকে ২২ জেলে অপহৃত, মুক্তিপণে পাঁচ জেলে মুক্ত

সুন্দরবনের জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে গত দু’দিনে কাঁকড়া ও মাছ শিকারে জড়িত ২২ জেলেকে অপহরণ করেছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল থেকে এসব জেলেকে অস্ত্রের মুখে তারা অপহরণ করে। অপহৃত জেলেরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপহৃত জেলেদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দিলেও অপর ১৭ জনকে তারা জিম্মি করে রেখেছে। এঘটনায় শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন তীরবর্তী হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি, মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম আতংক ভর করেছে। অপহৃতদের পরিবারের সদস্যসহ মহাজন এবং ফিরে আসা জেলেদের ভাষ্য গত চার থেকে পাঁচদিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে তারা সুন্দরবনে যায়। একপর্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কদমতলা স্টেশনের আওতাধীন এলাকার বিভিন্ন খালে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সময় আলিম ওরফে আলিফ বাহিনী এবং নানাভাই বাহিনীর সদস্যরা তাদের অন্তত ২৮ থেকে ৩০ সহযোগীকে অপহরণ করেছে। তবে তাৎক্ষনিকভাবে ২২ জনের নাম পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা। অপহরণের পর জিম্মি থাকা জেলেরা হলো সিংহড়তলী গ্রামের আবুল ফকিরের ছেলে মোমনি ফকির, হরিনগর গ্রামের মুর্শিদ আলম, মিজানুর শেখের ছেলে ইসমাইল শেখ ও মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল করিম, সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের ছাত্তার সানার ছেলে আব্দুস সামাদ, কুলতলি গ্রামের মনোহর সরকার, চুনকুড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আল মামুন, রুহুল আমিনের ছেলে হুমায়ুন, খালেক মোল্যার ছেলে মনিরুল, আব্দুল হাইয়ের ছেলে রবিউল, গনেশ মন্ডলের ছেলে সঞ্জয়, বড় ভেটখালী গ্রামের আলমগীরের ছেলে আলআমিন, ফরেজ গাজীর ছেলে শাহাজান, জুলফিকারের ছেলে আবুল বাসার বাবু, কদমতলার ছাকাত গাজীর ছেলে রেজাউল, দক্ষিন কদমতলার সাদেক সর্দারের ছেলে আব্দুস সালাম, ধুমঘাট গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে আবুল কালাম।

এছাড়া কুলতলি গ্রামের মৃত নিরাপদ সরকারের ছেলে ধ্রুবো সরকার, দক্ষিন কদমতলা গ্রামের সুবোল মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল, হরিনগর গ্রামের বাবুর আলী গাইনের ছেলে সবুর গাইন, সিংহড়তলীর গোলদার পাড়ের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও আনছার গাজীর ছেলে ইউনুস আলীকে মারিপট করে ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্মি জেলেদের কয়েক স্বজন জানায় এখনও পর্যন্ত জলদস্যুরা মুক্তিপণের কত টাকা দাবী তা জানায়নি। হয়তোবা মোবাইলের নেটওয়ার্কের মধ্যে ফিরে তারা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে। এদিকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে লোকালয়ের পাশ থেকে জলদস্যুরা জেলেদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে নৌ-পথে মাত্র ১০/১২ মিনিট দূরত্বে থেকে তাদের কয়েকজনকে তুলে নিয়েছে নানাভাই ও আলিম বাহিনীর সদস্যরা।

এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান জেলেদের অপহরণের বিষয়ে এরইমধ্যে তারা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান জানান অপহরণের শিকার কোনো জেলের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি তাদেরকে অবগত করেনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত