
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার সোনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সাগর নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবারের একমাত্র কন্যা। তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। এ কারণে শিশুটি তার নানির কাছে থেকে উক্ত মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে, তার মা মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, সে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর বিকালে মাদ্রাসা ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে মসজিদের বারান্দা পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন এবং পরে কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মদন থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাগর গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে র্যাব-১৪ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। র্যাব জানায়, আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।