ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চলনবিলে ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে

চলনবিলে ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে

চলনবিলের দিগন্তজোড়া মাঠে এখন সোনালি ধানের ঘ্রাণে উৎসব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ এখন বিষাদে রূপ নিয়েছে। উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট আগাম বন্যায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি, সরিষাবাড়ি ও পারিল এলাকায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হু হু করে বাড়তে থাকা বন্যার পানি আর তীব্র শ্রমিক সংকটের মুখে সোনার ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর সিংড়ায় ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। গত বুধবার সরেজমিনে সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের দক্ষিণ ও পশ্চিম মাঠে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। বিস্তীর্ণ মাঠের ধান এখন পানির নিচে। কৃষকরা নিরুপায় হয়ে কেউ হাঁটু পানি, আবার কেউ কোমর বা গলা সমান পানিতে নেমে আধপাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। অনেক জায়গায় কাটা ধান মাঠেই ভাসছে। সেই ভাসমান ধান নৌকা বা পলিথিনের অস্থায়ী ভেলায় করে শুকনো স্থানে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকরা। হঠাৎ বন্যায় পরিপূর্ণভাবে ধান পাকার আগেই পানির নিচে চলে যাওয়ায় ফসলের গুণমান নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান, হোসেন আলী ও আব্দুল কাদের জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নিচু জমিতে দ্রুত পানি ঢুকে পড়েছে। এই প্রতিকূল অবস্থায় ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। জমির অর্ধেক ধান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ১৫০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের পিঠ এখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে। মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন করা প্রয়োজন। আগামীদিনে যেন এ ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে না হয় এজন্য কৃষকরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিকে দুর্ভোগ কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক কষ্টে ধান কেটে তীরে আনা হলেও বৃষ্টির কারণে তা শুকানো যাচ্ছে না। রোদ না থাকায় এবং তীরবর্তী উঁচু জায়গাগুলো প্লাবিত হওয়ায় ধান রাখার মতো জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। ফলে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সংগৃহীত ধানও পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজে ধান কাটতে গিয়ে অনেক কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ জানান, ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি, সরিষাবাড়ি ও পারিল এলাকা অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ১৫০ হেক্টর জমির ধান বর্তমানে পানির নিচে। আমরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি কোনো প্রণোদনা বা পুনর্বাসন সহায়তা এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত