
যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারীর ঘাটতির কারণে প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন, কার্ডিওলজি, শিশু ও সার্জারি), মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টাল সার্জনসহ অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এছাড়া আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এদিকে চার জন ডাক্তার বিনা ছুটিতে বছরের পর বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
একটি সূত্র বলছে তারা সবাই বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। তারপরও তাদের পদগুলো শুন্য দেখানো হচ্ছে না। যে কারণে এই চারটি পদে কোনো ডাক্তার পদায়ন করা হয় না। অন্যদিকে, ছয় জন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত থাকায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন সহকারী সার্জন, চারজন জুনিয়র কনস্যালটেন্ট রয়েছেন। ফলে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু চিকিৎসকই নয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৮৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্যসেবায় জাতীয়ভাবে অন্তত ১৬ বার দেশসেরা পুরস্কার পেয়েছে। যে কারণে হাসপাতালটিতে গড়ে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১৫০০ রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল নিয়ে এত বিপুল রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে অনেক রোগীই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী জনবল বৃদ্ধি করা হয়নি, যা বর্তমান সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১০০ শয্যার অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে ১০০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানুল মিজান রুমী বলেন, নির্বাচনের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের প্রত্যাহার এবং শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। আমরা আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, আমরা আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যে চৌগাছা হাসপাতালের ১০০ বেডের কার্যক্রম শুরু হবে। তখন ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হবে।