
রংপুরে কোচিং সেন্টারে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল শুক্রবার দুপুরে র্যাব-১৩ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী সংবাদ মাধ্যমে জানান বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম বাদীর ৯ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যা শিশু। আসামি দেলোয়ার হোসেন তার বাড়ির পাশে ‘মা কোচিং সেন্টার’ নামে একটি কোচিংয়ে শিক্ষকতা করতেন। ভিকটিম আসামির পরিচালিত কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতো। গত রমজান মাসে আসামির স্ত্রী তার বাবার বাড়ি গেলে আসামি ভিকটিমকে কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করে। গত রমজান মাসের ৫ম রোজার দিনে আসামি ভিকটিমকে একটি কক্ষে আটকে রাখে এবং ভিকটিমের গলায় ছুরি ধরে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ফলে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। বাদী তার মেয়েকে কোনকিছু হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম ভয়ে কোনকিছু বলে না।
আসামির স্ত্রী তার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত আসামি ভিকটিমকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল মাসে আসামি ভিকটিমকে কোচিং সেন্টার ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে। কোচিং সেন্টারের অন্য শিক্ষার্থীরা চলে গেলে বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা করলে ভিকটিম চিৎকার শুরু করে। ভিকটিমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন কোচিং সেন্টারে প্রবেশ করলে আসামি পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে, গত ২২ এপ্রিল ভিকটিমের মা বাদী হয়ে রংপুর জেলার পীরগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ (ক)(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-২৬। আসামি দেলোয়ার হোসেন আত্মগোপনে ছিল। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেপ্তারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর এবং সিপিএসসি, র্যাব-১, গাজীপুর এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত বুধবার রাতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানাধীন রূপজান টাওয়ার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন সাগরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।