
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদীর ওপর সড়কবিহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা সেতু। চলাচলের কোনো রাস্তা না থাকার পরও দুই গ্রামের মাঝে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সেখানে শুধু সেতু আছে। নেই কোনো সংযোগ সড়ক।
জনগণের ব্যবহার ও চাহিদার গুরুত্ব বিবেচনা না করে এ সেতু নির্মাণের ফলে সরকারি অর্থের পুরোটাই অপচয় হয়েছে। ৩/৪ বছর আগে সড়ক ছাড়াই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। ফলে ব্রিজ থাকলেও সংযোগ সড়কের অভাবে সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার কারণে সেতুটি অলস পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, জায়লস্কর ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদীর ওপর ওমরপুর ও উত্তর জায়লস্কর গ্রামের সংযোগ স্থাপনে সেতুটি তৈরি করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। একই নদীর ওপর সামান্য দূরত্বে আরও ৪টি ব্রিজ আছে। বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে দলটির কিছু ব্যক্তির পকেট ভারী করতে এ সেতুটি নির্মিত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্স।
২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বরে প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। ২০২৩ সালে সেতুটির কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, কোটি টাকা খরচ করে এ পথে ব্রিজ তৈরির কোনো প্রয়োজন ছিল না। আশপাশের ওমরপুর, উত্তর জায়লস্করসহ তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াত সিলোনীয়া বাজার ঘিরে। এখানে বাজার, শহরে যাতায়াত ও যোগাযোগের পরিবহনগুলোও সিলোনীয়া বাজার ঘিরে।
আলী রাসেল নামে সেখানকার এক জমির মালিক বলেন, সেতু নির্মাণের কয়েক বছর পর আমাদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে।
রাশিদুল ইসলাম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, ওমরপুর এলাকা থেকে বর্তমান রাস্তা ব্যবহার করে শহরে যাতায়াতে যে সময় লাগবে, এই সেতু ব্যবহার করে যেতে তার দ্বিগুণ সময় লাগবে ।
সেতু নির্মাণের আগে উপযোগিতা যাচাইয়ের বিষয়ে এলজিইডি ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউর জানান, ওই সময় তিনি এই জেলায় ছিলেন না। তবে, সেতু নির্মাণের আগে উপযোগিতা যাচাইয়ে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়ার পরেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিনি আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। বিষয়টি মিমাংসার দারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।
ফলে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।