
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ভ্যাট নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভ্যাট ইন্সপেক্টরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দুর্গারামপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আহত ভ্যাট ইন্সপেক্টর মো. সাইফুল ইসলামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভ্যাট, এক্সাইজ ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দুর্গারামপুর এলাকায় ‘মেসার্স আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে যান। দোকানের মালিক হাবিবুর রহমানের কাছে তিনি প্রয়োজনীয় নথি প্রদর্শনের অনুরোধ করেন।
এ সময় সরকারি ছুটির দিনে দায়িত্ব পালন করায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাবিবুর রহমান তাকে ভুয়া কর্মকর্তা বলে সন্দেহ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে লোকজন জড়ো করে ভ্যাট ইন্সপেক্টরের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এতে তার একটি হাত ভেঙে যায়।
ঘটনার সময় বাঞ্ছারামপুর সদর গ্রামের মো. সবুজ মিয়া আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এতে তার মাথা ফেটে গুরুতর জখম হন। বাঞ্ছারামপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ বাসু বলেন, হট্টগোল দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে ভেট ইন্সপেক্টরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন জানান, আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং একটি হাত ভেঙে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সার্কেল রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল গনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয়ভাবে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি তাৎক্ষণিক কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘আল্লাহ ভরসা এন্টারপ্রাইজ’ দোকানের ম ালিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।