
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে একটি ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এনজিও নেতারা। গতকাল সোমবার কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) আয়োজিত ‘কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন সিসিএনএফের কো-চেয়ার রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। আসিয়ান ফোরামে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরাকান আর্মিদের সঙ্গে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানাচ্ছি। রেজাউল করিম চৌধুরী কক্সবাজারের সমসাময়িক ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকট ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য কক্সবাজারের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা স্থানীয় এনজিওগুলোকে বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে একশন এইড, টিডিএইচ ও এক্টেডের নাম উল্লেখ করা হয়। বক্তাদের দাবি, এসব আন্তর্জাতিক সংস্থার নিজ নিজ দেশ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে কাজ করার কথা। তারা জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর এই কার্যক্রমের তীব্র বিরোধিতা করেন। সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সম্প্রতি ইউএনএইচসিআর ব্র্যাক ও ইনফিনিক্সের মাধ্যমে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী কাঠামোর ঘর নির্মাণ করছে। যা স্থানীয় সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু উপকরণ পরিবেশবান্ধব নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পৃথিবীর কোথাও শরনার্থীদের জন্য এমন স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের নজির নেই। এটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে আরও রোহিঙ্গার ঢল সামলাতে হতে পারে। তাই জনগণ ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সিসিএনএফের সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য ১৫০ মিলিয়ন তহবিল দিয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ জাতিসংঘ এবং ৮ শতাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্থানীয়করণ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই তহবিলের ২৫ শতাংশ সরাসরি স্থানীয় এনজিওগুলোর কাছে যাওয়ার কথা। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে এমন আইন করা উচিত। যাতে স্থানীয় এনজিও ছাড়া জাতিসংঘের কোনো সংস্থা কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারে।
পাশাপাশি ঔজচ স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য উন্মুক্ত করারও দাবি জানাচ্ছি। কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ব্র্যাক স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য একটি পুল ফান্ড বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু সেখানে মাত্র ২২ শতাংশ স্থানীয় এনজিও এবং ৭৮ শতাংশ জাতীয় এনজিও তহবিল পাচ্ছে। অথচ এই তহবিল স্থানীয় এনজিওগুলোর জন্য হওয়া উচিত।