
ঠাকুরগাঁওয়ের কেশুরবাড়ী এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় কন্যা ডক্টর শামারুহ মির্জা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কেশুরবাড়ী তাঁতীপাড়ায় গিয়ে তিনি স্থানীয় তাঁতশিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁতশিল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। সরকারের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ উদ্যোগের আলোকে এ শিল্পকে আবারও ঘুরে দাঁড় করাতে কাজ করা হবে। তিনি জানান, ব্র্যাক ও আড়ংয়ের মাধ্যমে তাঁতজাত পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁতিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তাঁতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের এলাকায় ব্র্যাক থেকে লোকজন এসে তাঁতশিল্প নিয়ে আলোচনা করেছে। আড়ংয়ের মাধ্যমে পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। নির্বাচনি অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আপনারা আমার আব্বাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের যেকোনো সমস্যা ইউনিয়নের নেতাদের মাধ্যমে জানাবেন। তাঁতশিল্প যেন আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করতে চাই। সফরকালে ড. শামারুহ মির্জা স্থানীয় তাঁতশিল্প ঘুরে দেখেন এবং তাঁতিদের তৈরি কম্বল ক্রয় করেন। তাঁর এ উদ্যোগ স্থানীয় তাঁতিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
স্থানীয় তাঁতশিল্পী শ্যামলি রানী বলেন, একসময় এ এলাকায় তাঁতশিল্প খুব জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু কাজের সংকটে এখন অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। শিল্পটি পুনরায় চালু হলে গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
আরেক তাঁতি রবিন্দ বলেন, সুতার দাম বৃদ্ধি ও কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে তাঁতশিল্প আবারও আগের অবস্থায় ফিরতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় কেশুরবাড়ী এলাকার শতাধিক পরিবার তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত থাকলেও অবহেলা, কাঁচামালের সংকট ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে।