
আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের খামারে কোরবানির জন্য ৬ লক্ষাধিক গবাদি পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই হাটে কোরবানির পশু কেনা বেচাও শুরু হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার খামারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মোটাতাজা করা হচ্ছে কয়েক মাস আগে থেকেই। বিশেষ করে এ জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, এনায়েতপুর ও বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খামারে পশু মোটাতাজাকরণ বেশি হচ্ছে। এছাড়া কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, চৌহালী, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ গ্রামাঞ্চলে খামার মিনি খামারেও পশু পালন ও মোটাতাজাকরণ চলছে। এসব পশু মোটাতাজাকরণে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবার ব্যবহার না করার জন্য প্রচার করছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ। স্থানীয় খামারিরা বলছেন, দফায় দফায় বেড়েই চলছে গো-খাদ্যের দাম। এতে খামারিদের এখন গো-খাদ্যে খরচও বাড়ছে। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধির আশা করছে খামারিরা। এবার জেলায় কোরবানির জন্য ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩ টি গরুসহ বিভিন্ন পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বাড়িতে বাড়িতেও এসব পশু লালন পালন করা হচ্ছে। এ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২৭টি স্থায়ী ও ২০টি অস্থায়ী পশু বিক্রির হাট রয়েছে এবং এসব হাটের মাধ্যমে গবাদি পশু বিক্রি করবে খামারিরা। জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার এবং এ চাহিদা মিটিয়ে বাকি পশু ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ ও বিক্রি হবে ঈদের আগেই। এতে ছোট বড় খামারিসহ প্রান্তিক কৃষকেরা লাভবান হওয়ার আশা করছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, জেলার সবকয়টি উপজেলার খামার পরিদর্শন করা হচ্ছে।
গো-খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে এবং বেশিরভাগ খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন। অবশ্য ইতোপূর্বে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যথানিয়মে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে খামারিদের সচেতন করা হচ্ছে। পশুগুলোর নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং খামারিদের পশু বিক্রয়ের সুবিধার্থে অনলাইনে প্রচারের প্রক্রিয়া নেয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে হাটে পশু পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য ভ্যাটেনারি টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।