ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে ২০ গ্রামবাসীর পারাপার

ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে ২০ গ্রামবাসীর পারাপার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো এলাকাবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু উপজেলার খাটরা গ্রামে কাঠের সাঁকোটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যার ফলে ১৫-২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেলেও এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকো দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচনের আগে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিজ করে দেবে, নির্বাচনের পর আর খোঁজ নেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি, খাটরা, বল্লা, কাজিপুরসহ ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা এই কাঠের সাঁকো। কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়, ব্যাংকের শাখা, লুৎফা-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে। এছাড়া কালিহাতী উপজেলার রামপুর, গান্ধিনা, তেজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় ১২ বছর আগে এলাকাবাসী নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক এমপি আইলো গেল কেউ এই ব্রিজটি করে দেয় না। নির্বাচন আসলে বলে এই ব্রিজ করে দিমু, নির্বাচন যাওয়ার পর আর মনে থাকে না। আমাদের এই ব্রিজটি খুবই দরকার। হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।

অটোচালক রিপন মিয়া বলেন, এই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই কাঠের সাঁকো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। পরে নিজেরা টাকা তুলে এই কাঠের সাঁকো ঠিক করতে হয়। আরেক অটোচালক আজমত আলী বলেন, এই ব্রিজ করে দেবে অনেকেই কথা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ব্রিজটি কেউ করে দেয়নি। আমাদের কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই ব্রিজে আমি দুর্ঘটনার শিকার হই। তক্তা ভেঙ্গে আমার অটোগাড়ি নিচে পড়ে যায়। পরে ৬ জনে মিলে আমার অটোগাড়ি উপরে তুলি। কাঠের সাঁকো দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আমাদের এখানে ব্রিজ হওয়া খুবই প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, আমাদের এই কাঠের ব্রিজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে। ভ্যান-অটো, সিএনজিওগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সকাল হলেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যায়। যখন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করে তখন মনে হয় ব্রিজটি দুলছে। সরকারের কাছে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, বাসাইলের খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব ১০০ প্রকল্পের প্রথম দিকের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে। অনূর্ধ্ব ১০০ প্রকল্প শুরু হলেই এই খাটরা ব্রিজ টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। মন্ত্রী তাগিদ দিচ্ছেন, এই ব্রিজটি যত দ্রুত সম্ভব করা হবে ।অনূর্ধ্ব ১০০ প্রকল্পে যদি সময় লাগে তাহলে টাঙ্গাইলের অন্য প্রকল্প থেকে ব্রিজ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী। খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ও টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলী যথেষ্ট সচেষ্ট রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত