
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন।
গত মঙ্গলবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন তিনি। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব মোচিদা ইউতারো ও ফুজিমোতো সাওরি ।
সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জাপানের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র তুলে ধরেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী।
এসময় স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরে যে সমস্যাগুলো প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক এবং পরিবেশসম্মত না হওয়ায় পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
জাপান এক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত। সেই জন্য আমরা আমাদের ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনার জন্য জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছি। এক্ষেত্রে জাইকাও দারুণ ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জাপান আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের সহায়তা করুক। চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে, বিশেষ করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে পুরো নগরীজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মেট্রোরেল নির্মাণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মতো নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা, যেমন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে জাপান আমাদের সহায়তা করতে পারে। জবাবে রাষ্ট্রদূূত সাইদা শিনিচি বলেন, চট্টগ্রাম অত্যন্ত সম্ভাবনাময় নগরী। চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাপানের সহায়তায় যেসব প্রকল্প চলছে তা চট্টগ্রামের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে আরো নানা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে জাপান। সভায় প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম শহরের বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি এবং এক্ষেত্রে মান উন্নয়নে জাপান কী ধরনের সহায়তা করতে পারে তা তুলে ধরেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা অবকাঠামো তুলে ধরে শিক্ষার মান উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম এবং জাপানের সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।