
দিনাজপুরে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সিডিএ)-এর সহযোগিতায় কৃষি বিপণন দপ্তরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী ও তরুণ উদ্যোক্তারা ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত জৈব সার) উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। গতকাল বুধবার চিরিরবন্দর উপজেলা-র ৭নং আওলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মোহাদানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রূপনাথ রায়ের স্ত্রী স্মৃতি রায় মাটির গুড়ের চারিতে কেঁচোর মাধ্যমে জৈব সার উৎপাদন করে পরিবার ও সন্তানসহ সংসারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এনেছেন। স্মৃতি রায় বলেন, সিডিএ’র সহযোগিতায় এবং কৃষি বিপণন দপ্তরে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমে ৩০ টাকা করে দুটি খালি গুড়ের চাড়ি কিনে উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তার ১৬টি চারিতে কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সিডিএ’র সহযোগিতায় গঠিত ভূমিহীন জনসংগঠন ইউনিটে গিয়ে সেই সার বিক্রি করে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে এবং বর্তমানে তাদের ক্ষমতায়নও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আয় দিয়ে তিনি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরাও এখন তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার উৎপাদিত সার গ্রামের কৃষকরাও কিনে রাসায়নিকমুক্ত ফসল আবাদ করছেন। এছাড়া নারী উদ্যোক্তা মায়া রাণী, রুপালী রায় এবং তরুণ উদ্যোক্তা মো. রাশেদ আলী জানান, ১২টি রিং ও ৫টি হাউসে কেঁচো সার উৎপাদন করে তারা প্রতিমাসে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন। চকমুসা জনসংগঠনের সদস্য তরুণ উদ্যোক্তা রাশেদ আলী বলেন, সিডিএ তাদের ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং উৎপাদিত সার বিক্রির জন্য বাজার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে। ফলে তারা আজ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।
চিরিরবন্দর উপজেলা-এ সিডিএ’র সহযোগিতায় ২৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা বদলে ফেলেছেন।