
বর্তমান সময়ের দাবীতে কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শৈল্পিক রুপ দিতে হবে। কৃষির আধুনিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। এ ধরনের মেলা কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গতকাল শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় কৃষি প্রযুক্তি মেলা ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করার সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে সনাতন পদ্ধতি থেকে বের হয়ে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ছাদ কৃষি, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা ও ক্ষতিকর কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর কৃষকদের জোর দিতে হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বাঞ্ছারামপুরে এখনো বহু জমিতে আবাদ হয় না। কারন, কৃষিকে বহুমুখীকরনের সুফল না পাওয়ায় বর্তমান প্রজন্ম কৃষি থেকে বিমুখ হয়ে অন্যকাজে নিয়োজিত বা প্রবাসী হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বের হতে কৃষি বিভাগকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিসটেন্স প্রজেক্টের আওতায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ফিতা কাটেন কৃষি কর্মকর্তা মো আবদুল্লাহ আল মামুন। উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি,গণসংহতি আন্দোলনের বিভিন্ন নেতাকর্মী সহ প্রান্তিক পর্যায়ের বহু কৃষক। পরে একটি রেলি বের হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ মেলায় কৃষি প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ফসল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সেচ প্রযুক্তি ও কৃষি সেবাভিত্তিক বিভিন্ন স্টল বসানো হয়েছে। মেলায় কৃষকরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সেবা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাচ্ছেন। বিভিন্ন স্টলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন— কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির প্রদর্শনী চলছে। এছাড়া রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল, জৈব সার প্রস্তুত প্রণালি ও বিভিন্ন ফলদ ও বনজ ওষুধি চারার সমাহার। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই কৃষি প্রযুক্তি মেলার সমাপ্তি ঘটবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় ১৩টি স্টল স্থান পেয়েছে।