
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি শিশু টিকাদান কর্মসূচির ভ্যাকসিন সংরক্ষণে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত কোল্ড চেইনের বাইরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে সরকারি ভ্যাকসিন রাখা এবং ব্যবহৃত চিকিৎসা বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত সমিলঘরে শিশুদের সরকারি টিকাদান কর্মসূচির ভ্যাকসিন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পোর্টার ফেরদৌস প্রতিদিন টিকাদান শেষে অব্যবহৃত ভ্যাকসিন হাসপাতালে নির্ধারিত কোল্ড চেইনে ফেরত না এনে নিজের মালিকানাধীন ওই পরিত্যক্ত সমিলঘরে সংরক্ষণ করেন। পরদিন আবার সেখান থেকেই বিভিন্ন এলাকায় টিকাদানের জন্য ভ্যাকসিন নিয়ে যান।
এছাড়া ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সুই ও ভ্যাকসিনের খালি ভায়াল নিরাপদভাবে নিষ্পত্তি করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও, সেগুলোও ওই পরিত্যক্ত ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহৃত সুই বা সিরিঞ্জ কোনো সংক্রমিত রোগীর রক্তে দূষিত হয়ে থাকলে তা অসাবধানতাবশত অন্য কারও শরীরে প্রবেশ করলে হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এবং এইচআইভিসহ বিভিন্ন রক্তবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় না থাকলে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে, যা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুতর হুমকি।
এ ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ উঠেছে টিকাদান কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বে থাকা এমটিইপিআই শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এমটিইপিআই শফিউল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বাসক বলেন, হাসপাতালের বাইরে বা অন্য কোথাও ভ্যাকসিন বা পোলিও টিকা সংরক্ষণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।