
বগুড়ায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির ঝুলন্ত লাশ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসামির নাম আসাদ। তিনি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সীর ছেলে।
তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। গত শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ জানান, গত ২৮ জুন আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রীবেশে অটোরিকশা ভাড়া করেন। পরে সারিয়াকান্দি এলাকায় চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁয় যান। পরে চার্জ শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি সেখানে রেখে পালিয়ে যান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পুলিশের ভাষ্য, গতকাল রোববার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট পরও বাইরে না আসায় পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে সরকারী মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ডিবি পুলিশ জানায়, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সকালে নাশতা করার পর আসাদ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। এরপর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে তিনি বাথরুমে প্রবেশ করেন। আসাদের বাবা ও মাদ্রাসাশিক্ষক মতি মুন্সি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং নিহতের মোবাইল ফোন তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করার আগেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন।