ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সড়ক ও মহাসড়কে বড় বড় গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

সড়ক ও মহাসড়কে বড় বড় গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

টানা বৃষ্টির প্রকোপে এশিয়ান হাইওয়ে ও ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তা যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যানবাহন বিকল হয়ে হর হামেশাই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। রাজধানীর প্রবেশদ্বার এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল রূপগঞ্জ।

প্রতিদিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, এশিয়ান হাইওয়ে, ৩০০ ফুট সড়ক এবং উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে চলাচল করে হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানবাহন। কিন্তু উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদে বাস্তবতা ভিন্ন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হওয়া বড় বড় গর্ত, দেবে যাওয়া অংশ এবং উঠে যাওয়া কার্পেটিং এখন জনদুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এসব ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সম্প্রতি সরেজমিনে সড়ক, মহাসড়কের রূপগঞ্জ অংশে এবং উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে কোথায় রাস্তা শেষ আর কোথায় গর্ত শুরু তা বোঝার সুযোগ থাকছে না। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি ও ছোট যানবাহনের চালকেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। তবে এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কে ভয়াবহ চিত্র বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ সড়কের কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশে, চরপাড়া হতে কালাদী, নলপাথর হতে পুনাবো, গোলাকান্দাইল হতে শিংলাবো পর্যন্ত সড়ক বড় বড় গর্ত ও ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোন কোন স্থানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কাঞ্চন সেতু হতে ফজুর বাড়ির মোড় ও বাগবেড় সড়ক ভেঙে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপসি থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। মুহূর্তের মধ্যেই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না স্কুলে, চাকরিজীবীরা যেতে পারছে না তাদের কর্মস্থলে। বড় বড় গর্তে পানি জমে, প্রতিদিনই মাল বাহি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের মদনপুর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫’শ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। রাজধানীর প্রবেশ মুখে এ সড়কের বেহাল অবস্থা যান চলাচলে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, অনেক সময় গর্ত এড়াতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন বিপরীত লেনে উঠে পড়ে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। রূপগঞ্জে অতীতেও একাধিক প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এবং সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধনও হয়েছে। কাঞ্চন এলাকার ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন বলেন, ভুলতা গাউছিয়া আমার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন দোকানে আসতে-যেতে আতঙ্কে থাকতে হয়। গর্ত এড়াতে গিয়ে গাড়িগুলো হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করছে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হয় বছরের পর বছর কেউ নজরই দেয়নি। কখন যে বড় দুর্ঘটনা ঘটে, বলা যায় না।

কন্টেইনার চালক আলতাফ মিয়া বলেন, রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জমা পানিতে গর্ত দেখা যায় না। খানাখন্দে চাকা পড়লে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। লেগুনা চালক জাহের আলী বলেন, রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ বারবার নষ্ট হচ্ছে। প্রতিমাসে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। আয় কমছে, খরচ বাড়ছে। অথচ স্থায়ী সমাধান নেই। কবে শেষ হবে এই সড়কের উন্নয়ন কাজ।

পূর্বাচল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের (টি আই) সোহেল রানা জানান, চায়না প্রজেক্ট ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এর ওপর কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রীন ইউনিভার্সিটির সামনে কাঁচা রাস্তা হওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মেরামতের চেষ্টা করছি। চায়না কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে ইউনিভার্সিটির সামনে জায়গার কাজ শেষ হলে যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

এ ব্যাপারে জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের যারা দায়িত্বে রয়েছে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা কথা দিয়েছেন বৃষ্টির পানি সরে গেলেই যেগুলোতে গর্ত হয়ে গিয়েছে সেগুলো ভরাট এবং সংস্কার করে দেবেন। এছাড়া এলজিইডি’র সড়কগুলো মেরামত করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত