
নারায়ণগঞ্জ নগরীর হাজীগঞ্জে অবস্থিত দেশের প্রথম জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আগুন নেভাতে পুলিশ সদস্যদের ছুটে যেতে দেখা যায়। তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশ কাপড় দিয়ে সাজানো হয়েছিল। ভোররাতে দূর থেকে আগুন জ্বালানো ছোট একটি কাপড়ের দলা ছুড়ে মারলে পাশের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। আগুনের পরিমাণ সীমিত ছিল এবং পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওসি আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগুনের দৃশ্য অতিরঞ্জিত করে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে আগুন নিক্ষেপকারীরা কারা এবং কতজন ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অগ্নিসংযোগের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো সহযোগী সংগঠনের সদস্য জড়িত কিনা, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের হাজীগঞ্জ এলাকায় এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টার উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করা হয়। এটিই দেশের প্রথম জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। এসব স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের নামসংবলিত ফলক সংযোজন করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভটির নিরাপত্তার জন্য উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যা ফতুল্লা মডেল থানার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।