
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সাভারে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছে পৌর ছাত্রদল। কর্মসূচি থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অনেক ব্যক্তি এখনো আইনের আওতার বাইরে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। গতকাল বুধবার সাভারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করেন সাভার পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজ খান নাঈম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়ন খোরশেদ আলম। সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা ও কাউন্সিল পদপ্রার্থী ইউনুস খান।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, শহিদ পরিবারের সদস্য, প্রায় ৬০০ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লায়ন খোরশেদ আলম বলেন, স্বৈরাচারকে কোনোভাবেই সাভারের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসীরা সাভারের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যাবে। জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য অনুপ্রেরণা; তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আয়োজক তাজ খান নাঈম বলেন, আমরা জুলাই বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি, কিন্তু জুলাইকে বিক্রি করে রাজনীতি করি না। জুলাই আমাদের আত্মত্যাগ, গর্ব ও দায়বদ্ধতার প্রতীক। তিনি বলেন, “যারা ছাত্র-জনতার ওপর পাখির মতো গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের অনেকেই এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাই। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মার মাগফেরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই শহিদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।